গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবন:,একদিনে নিহত ১১৯, ফের সহিংসতার ঘূর্ণিপাকে ফিলিস্তিন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৯ বার

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক |একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজা উপত্যকা যেন রক্তে ভেজা এক শোকাবহ জনপদে পরিণত হয়েছে। একদিনের ব্যবধানে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১৯ জন ফিলিস্তিনি, আর আহত হয়েছেন আরও ৮৬৬ জন—এই হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা যায়, রবিবার সকাল থেকেই ইসরাইলি বাহিনীর বিমান ও স্থল হামলার তীব্রতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারে কমপক্ষে ১১৯টি মৃতদেহ আনা হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসা অব্যাহত থাকলেও অধিকাংশ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও কর্মী সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এই পর্যন্ত চলমান সংঘাতে আহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৮ জনে, যার মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু ও নারী। যদিও এই পরিসংখ্যান প্রতিদিনই পরিবর্তিত হচ্ছে, তবুও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ এবং বহু হতাহত এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে, ত্রাণ সংগ্রহের সময় ইসরাইলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৫১১ জন। ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত ফিলিস্তিনির মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮৭ জনে, যা যুদ্ধের পাশাপাশি মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও ইসরাইলি বাধার নৃশংস চিত্র তুলে ধরে। ২০২৪ সালের ২৭ মে থেকে এ পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৫৭৮ জন।

গাজায় চলমান এই বিপর্যয় শুরু হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর। সেদিন ফিলিস্তিনের সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এক অভাবনীয় ও সমন্বিত হামলার মাধ্যমে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশ করে। হামলায় অন্তত ১,২০০ জন ইসরাইলি নিহত হন এবং আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

উক্ত হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল সরকার গাজার ওপর সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে। স্থল, নৌ ও আকাশপথে অব্যাহত আগ্রাসনে প্রায় ১৫ মাস ধরে ঘুমহীন এক জনপদে পরিণত হয়েছে গাজা। যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসেই ধ্বংস হয়ে যায় হাসপাতাল, স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক অবকাঠামো। শিশুদের জন্য স্কুল কিংবা সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থান—কোনোটিই আর কার্যকর নেই।

২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এক পক্ষীয়ভাবে ইসরাইল সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা গাজা আবারও সহিংসতায় জর্জরিত, আর তা থেকে নিস্তার মিলছে না নিরীহ ফিলিস্তিনিদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মহল যতই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাক না কেন, গাজায় যুদ্ধের রূপ পরিবর্তিত হলেও তার নির্মমতা কমছে না। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ইসরাইলের বর্তমান কৌশলকে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে গণ্য করা উচিত এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন। ত্রাণ কনভয়ে হামলা এবং সাধারণ মানুষের ওপর লক্ষ্যহীন বোমাবর্ষণ—সব মিলিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব আজ প্রশ্নের মুখে।

এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। তবে এখনো কোনো পক্ষই কার্যকর শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগুতে পারছে না, যার ফলে মৃত্যু, ধ্বংস ও মানবিক দুর্দশার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না গাজা উপত্যকা।

প্রতিদিনের এই ভয়াবহ বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বিশ্ববাসীর সামনে একটাই প্রশ্ন—এই নিস্তব্ধ মৃত্যুর মিছিলের শেষ কোথায়? গাজা কি কখনো সত্যিকার অর্থে শান্তির আলো দেখতে পাবে?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত