‘জুলাই জাগরণ নব উদ্যমে বিনির্মাণ’: গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাজধানীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বর্ণাঢ্য র‌্যালি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭৯ বার

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গণআন্দোলনের বিজয়ের এক বছর পূর্তিতে রাজধানীর রাজপথে আবারও প্রতিধ্বনিত হলো শ্লোগান—স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতার সংগ্রামী কণ্ঠস্বর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত ‘গণঅভ্যুত্থান’ এবং গণভবনের প্রতীকী ‘ফতহ’–র স্মরণে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে ইসলামী ছাত্রশিবির। এই উপলক্ষে সংগঠনটি তাদের বার্ষিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই জাগরণ নব উদ্যমে বিনির্মাণ’ শ্লোগানকে সামনে রেখে রাজপথে নামে।

র‌্যালিটি সকাল ১০টার দিকে জাতীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ এলাকা ঘুরে আবার শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় নেতা সিবগাতুল্লাহ ও সাদিক কায়েম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এসএম ফরহাদ এবং মহানগর শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শত শত শিক্ষার্থী এই র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। হাতে ছিল ব্যানার, ফেস্টুন ও সংগঠনের পতাকা; মুখে মুখে ছিল গত বছরের আন্দোলনে ব্যবহৃত শ্লোগানের প্রতিধ্বনি।

র‌্যালির নেতৃত্বদানকারী নেতারা বলেন, গত বছরের এই দিনে ছাত্রজনতা এক অভূতপূর্ব গণপ্রতিরোধের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতনের জন্য চূড়ান্ত ধাক্কা দিয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনও আন্দোলনকামী ছাত্রসমাজকে প্রেরণা যোগায়। বক্তারা আরও জানান, এই র‌্যালির মাধ্যমে তারা সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে শুধু স্মরণই করেননি, বরং নতুন করে দেশ বিনির্মাণের শপথও নিয়েছেন।

শাহবাগ মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই দিনটি শুধু ইতিহাসের পাতায় লেখা নয়, এটি আমাদের বুকে আগুন জ্বালানো একটি প্রত্যয়। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সংগ্রাম একদিন সত্যিকার অর্থেই একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রের পথ সুগম করবে।” তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন।

র‌্যালিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এই অংশগ্রহণ কোনো দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এক নৈতিক দায়িত্ব। তারা মনে করেন, দেশে গণতন্ত্রের নামে যেভাবে একদলীয় শাসন চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, তা ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধেই ভেসে গেছে।

এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে শান্তিপূর্ণভাবেই র‌্যালিটি শেষ হয় এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও র‌্যালিটির ছবি, ভিডিও এবং বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই র‌্যালিকে ‘গণচেতনার পুনর্জাগরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে সরকারপন্থী অনেক ব্যবহারকারী এই কর্মসূচিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন, যা নিয়ে বিতর্কও চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের স্মরণ কর্মসূচি নিছক অতীত উদযাপনের চেয়ে বড় কিছু—এটি একটি চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই অংশ, যা আগামী দিনে দেশের ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, এই র‌্যালি তারই প্রতিফলন।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, এক বছর আগে রাজপথে ছড়ানো যে আগুন দিয়েছিলো ছাত্রসমাজ, তার সেই আগুন এখনও নিভে যায়নি। বরং ‘জুলাই জাগরণ’–এর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে তা আবারও প্রজ্বলিত হচ্ছে নতুন উদ্যমে। আন্দোলনের সেই শ্লোগান আজও ধ্বনিত হচ্ছে—“স্বৈরতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দাও।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত