সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ছায়ায় দেশজুড়ে তোলপাড়: মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন পাঁচ দিনের রিমান্ডে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৪ বার

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়েরকৃত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর সাদেকুল হক সাদেকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। গোপন গেরিলা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন এই নারীকে গত বুধবার আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সুমাইয়া জাফরিনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাশে অবস্থিত কে বি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সশস্ত্র প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। পুলিশ বলছে, এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক নাশকতা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করা। ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও অনেকের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে আসছে বলে ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১২ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে বাদী ছিলেন পুলিশ নিজেই। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পরিকল্পনা করছিল। প্রশিক্ষণের ধরন, অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়, এবং কাদের সহায়তায় এই আয়োজনটি বাস্তবায়িত হচ্ছিল, তা খুঁজে বের করতেই চলছে জোরালো তদন্ত।

ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সাদেকুল হক সাদেককে এর আগে ১৭ জুলাই রাজধানীর উত্তরা থেকে আটক করে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। ১ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে সেনাবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধান অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে এক গভীর উদ্বেগ। এটি নিছক বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নাকি একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ—সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। বিশেষ করে সরকারি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অস্ত্রধারী প্রশিক্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের কারণে রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা, যেখানে নিরাপত্তা ও রাজনীতির সীমারেখা আবার নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সরকার এবং সেনাবাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে যদি বিষয়টি দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তি না হয়, তবে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তদন্ত সংস্থাগুলো ঘটনার আন্তর্জাতিক সংযোগ বা অর্থায়নের উৎস সম্পর্কেও অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রশিক্ষণার্থীদের কোনো বিদেশি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কিনা, তাও নজরে রাখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও মানবাধিকার নিশ্চিতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয় এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন।

প্রতিদিন উন্মোচিত হচ্ছে নতুন তথ্য, প্রতিদিন জোরালো হচ্ছে সংশয়। এই ঘটনা শুধু একটি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাষ্ট্রের কাঠামো, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকে। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সকলের জবাবদিহিতার মাধ্যমেই কেবল ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে জনমনে আস্থা ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের শক্ত ভিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত