সর্বশেষ :
টানা ২ দফায় রুপার দাম বেড়েছে ৩৫০ টাকা বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু, স্পিকার নির্বাচনে আলোচনা কাতারের প্রতিমন্ত্রী জানালো, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানের শত্রু নয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতিতে যোগ্যতার শর্ত দিলেন এমপি মাজেদ ঢাকা ওয়াসার নতুন এমডি সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম নিযুক্ত বুধবারের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে সামান্য পরিবর্তন নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতার ব্যবসায় হামলায় কর্মী গুরুতর জখম স্বর্ণের দাম টানা দুই দফায় ৫ হাজারের বেশি বেড়েছে ইংল্যান্ডের রাইট-ব্যাক কাইল ওয়ালকার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি খালাস অব্যাহত, মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু: নির্বাচন আয়োজনই এখন প্রধান লক্ষ্য

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৭ বার

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশে আজ থেকে শুরু হলো অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায়। নির্বাচনপূর্ব সময়ে গঠিত এই প্রশাসনিক পর্বটিকে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই নতুন পর্বের সূচনার ঘোষণা দিয়ে একে একটি ‘অবিচ্ছেদ্য রূপান্তরকাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা।

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের সামনে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি জানান, ড. ইউনূস পরিষদের বৈঠকে বলেন, “আজ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হলো, এর প্রধান কাজ হচ্ছে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করানো।” এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারের অগ্রাধিকার কার্যসূচির কেন্দ্রে চলে এসেছে নির্বাচন কমিশনের সহায়তা, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, এবং সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোগত সংস্কার, দুর্নীতি দমন, এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজগুলোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল ও কূটনীতিক মহল সেই প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলেও, দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছুটা সংশয় ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। নতুন পর্বে এসব সমালোচনার নিরসন ঘটিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টা। আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে নির্বাচনী সময়সীমা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার কৌশল, এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের সম্ভাব্য রূপরেখা। শফিকুল আলম জানান, বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় অধ্যায়ের ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারের এখনকার মূল চ্যালেঞ্জ হবে রাজনৈতিক আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি করা। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সরকার আরও সতর্ক এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এক পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এবং জনগণের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে এই নতুন অধ্যায় কতটা সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে, তা নির্ধারণ করবে আগামী কয়েক মাসের বাস্তব কর্মকাণ্ড।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে জানানো হয়েছে, সামনের সপ্তাহেই একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে, যেখানে নির্বাচন সংক্রান্ত পদক্ষেপ, সময়সূচি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার কথা উল্লেখ থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও ইতোমধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এই অন্তর্বর্তী পর্যায়ের প্রতিটি সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ের সফল বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ফের উসকে উঠতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত যা বলা হয়েছে, তাতে আশার আলো দেখছেন দেশবাসীর একটি বড় অংশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত