প্রকাশ: ০৮ অগাস্ট ‘ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ডা. এজাজুল ইসলাম—চিকিৎসক এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা। আরটিভিতে সম্প্রতি শুরু হওয়া ধারাবাহিক নাটক ‘ম্যানেজ মাস্টার’-এ তিনি অভিনয় করছেন। নাটক এবং অভিনয়ের নানা বিষয় নিয়ে তিনি সম্প্রতি রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ-এর সঙ্গে আলোচনা করেন।
‘ম্যানেজ মাস্টার’ নাটকের গল্প এবং চরিত্র নিয়ে ডা. এজাজ জানান, এটি আগের তার নাটক থেকে ভিন্ন ধরনের একটি হাস্যরসাত্মক ধারাবাহিক। নাটকের গল্প এমন কিছু চরিত্র নিয়ে, যারা সবাই নিজেদের স্বার্থ ও সুবিধার জন্য ‘ম্যানেজ’ করে চলেছে। নাটকের পরিচালক সঞ্জিত সরকার নিজের লেখা গল্পে এই দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। নাটকে তার চরিত্রটি একজন ‘বুড়ো বদমায়েশ’, বয়সে বয়স্ক হলেও তরুণ ছেলেদের সঙ্গে মিশে বিভিন্ন ধরনের কৌশল ও বদ বুদ্ধি দিয়ে তাদের সাথে থাকে। তিনি নিজেকে কখনো বুড়ো ভাবতে চান না, তাই তরুণদের সঙ্গে মিশে থাকে।
অভিনয় জীবনের শুরুতে ডা. এজাজ সিরিয়াস চরিত্রেই কাজ করলেও পরবর্তীতে হাস্যরসাত্মক চরিত্রে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এই ধারার নাটকে তাকে মূলত হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই জায়গা করে নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তার অভিনয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন এবং তার কমেডি চরিত্রগুলো দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর ফলে নির্মাতারা তাকে এই ধরনের চরিত্রেই বেশি ডাকেন। যদিও পরবর্তীতে একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে করতে একঘেয়েমির অনুভূতি এসেছে, তবুও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসার কারণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমান নাটকগুলোতে ভালো গল্প ও বৈচিত্র্যের অভাব থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, ভালো নাট্যকারের ঘাটতি এবং গল্পে নান্দনিক বৈচিত্র্যের অভাব বর্তমান নাটকের বড় সংকট। ভালো গল্প ছাড়া নাটকের আকর্ষণ হারিয়ে যায়, যা দর্শকদের আনন্দ কমিয়ে দেয়।
হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করে তিনি এক ধরনের ম্যাজিক অনুভব করেছেন যা তার অভিনয়ের প্রতি দর্শকদের ভালোবাসা জন্ম দিয়েছে। তবে এখন জনপ্রিয় চরিত্রের সঙ্গে তুলনা থেকে নিজেকে আলাদা করে তোলা কঠিন। নাটকের বাইরে সিনেমায় তিনি কিছু ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে আত্মতৃপ্তি পেয়েছেন। বিশেষ করে হিমেল আশরাফ পরিচালিত ‘রাজকুমার’ সিনেমার ‘সিগন্যাল ভাই’ চরিত্র এবং রায়হান রাফীর ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় অভিনয় তাকে নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
নিজেকে কীভাবে পরিচয় দেন—অভিনেতা নাকি চিকিৎসক—ডা. এজাজ বলেন, ‘আমি প্রথমে ডাক্তার, পরে অভিনেতা। দর্শকদের কাছে অভিনয়জীবনে পাওয়া ভালোবাসা তিনি মূল্যায়ন করেন, কিন্তু তার পেশাগত পরিচয় হিসেবে চিকিৎসক থাকার অনুভূতিই তার জন্য শ্রেষ্ঠ। যত কাজই করুক, তিনি সবসময় রোগীর সেবায় প্রস্তুত থাকেন।’
এভাবেই দুই পেশার মাঝে নিজেকে ভারসাম্য রেখে ডা. এজাজুল ইসলাম নিজের অভিনয় ও চিকিৎসক জীবন পরিচালনা করছেন, যেখানে তিনি প্রতিটি দিকেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।