সারজিস আলমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা: সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডে বিএনপিকে জড়ানোর অপপ্রচারের অভিযোগে দাবি ১০ কোটি টাকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১২৭ বার
মানবতার আহ্বানে মিশরের পথে এনসিপি নেতা সারজিস আলম

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজীপুর কোর্টে মঙ্গলবার বিএনপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাসন থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজ দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে—সারজিস আলম সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট বা মন্তব্য করে সাংবাদিক তুহিনকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনাটিকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত করে ভুল ও বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়েছেন, যা দলের ও ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার উপযোগী এবং প্রকাশ্য মানহানি–অভিযোগ। মামলায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

মামলাজনিত বক্তব্যে তানভীর সিরাজ দাবি করেন, ‘অপরাধী চক্রের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিক তুহিনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু এসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম না জেনে ফেসবুকে এই ঘটনায় বিএনপিকে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে, যা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।’ তিনি বললেন, এর ফলে ব্যক্তি এবং সংগঠনের সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে, তাই আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাইছেন।

প্রার্থিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এবং দায়েরকৃত মামলার সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের কারণে ব্যক্তি ও সংগঠনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে; সেই ক্ষতিপূরণ ও ক্ষমতায়ন ফিরিয়ে আনতে এই সিভিল মানহানির দাবি করা হয়েছে। গাজীপুরের সংশ্লিষ্ট কোর্টে মামলা২০১৫–নথিভুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের সিদ্ধান্তমত চলবে।

ঘটনা সংক্রান্ত পরিবেশনার মধ্যে রয়েছে—সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তুহিন হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ও কবলিত ঘটনাস্থল সংক্রান্ত নানা বিবরণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক প্রতিক্রিয়ার তাড়নায় এবং অনভিজ্ঞ কিংবা তাত্ক্ষণিক ধারনার কারণে বিভিন্ন ব্যক্তির মন্তব্য আলোচনায় এসেছে, যার মধ্যে কেহ কেহ রাজনীতিক সংগঠনকে উৎসারিত ভাবে দায়ী করার মত বক্তব্যও দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলাকারী পক্ষের দাবি অনুযায়ী, সারজিস আলমের মন্তব্য বা প্রচার এটিই একটি উদাহরণ।

অপর দিকে সারজিস আলম, এনসিপি বা বিএনপির অন্য কোনো স্থানীয় নেতার পক্ষ থেকে এখনও আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগ প্রসঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার কথা ওপেন সোর্স রিপোর্ট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যায়নি—মামলার সূত্রে এ পথে আদালত যত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন, তাতে বিষয়টির আইনগত দিক বিশদভাবে বিচারাধীন হবে। পাশাপাশি মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া, তদন্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানের ফলাফলও বিষয়টির বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, মানহানির মামলা হলে আদালত প্রমাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন—কোন মন্তব্য সত্য ছিল কি না, মন্তব্যের উদ্দেশ্য কি ছিল, ও তা কি প্রকাশ করা যায়নি এমন কোনো তথ্য সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কি না তা বিচার্য কাগজপত্র ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। মামলাকারী পক্ষ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন বলেই তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে এমন নয়; আদালতই চুড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সমাজে তথ্য যাচাই ও নির্মোহ সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলেছে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা—বিশেষ করে সংবেদনশীল ও সহিংস ঘটনাসমূহে দ্রুততম প্রতিক্রিয়া দেয়ার চাপে কখনো কখনো বিভ্রান্তিকর বা অসত্য দাবিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে বৃহৎ আপসোস ও ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমন অবস্থায় সংবাদপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলসহ সকলে সাবধানতার সঙ্গে বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান করছে গণমাধ্যম মহল।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মামলার নথি ও কাগজপত্রের বিস্তারিত, পাশাপাশি সারজিস আলম বা তার সংগঠন থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া আদৌ কি ছিল—এ বিষয়ে অফিসিয়াল কোনো বিবৃতি মিডিয়াতে চোখে পড়েনি। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ, আদালতের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মন্তব্য পাওয়া মাত্র ভবিষ্যতে পাঠকদের জানানো হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত