প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। মঙ্গলবার আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের সই করা এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই লঘুচাপ গঠনের ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাবে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা এই সময় প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের আবহাওয়াকে আর্দ্র ও শীতল করবে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার সকাল ৯টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বহু এলাকায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু অংশে বৃষ্টি হতে পারে। এই সময় তাপমাত্রায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে নদী অববাহিকার পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য লঘুচাপটি যদি নিম্নচাপে পরিণত হয়, তবে উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ বাড়তে পারে এবং সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত জারি করতে হতে পারে।
দেশের কৃষি খাতে এই বৃষ্টিপাত ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত আমন ধান ও বিভিন্ন সবজির চাষে পর্যাপ্ত সেচের সুযোগ তৈরি হবে। তবে অতিবৃষ্টির ফলে কিছু অঞ্চলে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকিও থেকে যাবে। আবহাওয়াবিদরা তাই কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই সম্ভাব্য লঘুচাপের গতিপথ ও শক্তি পর্যবেক্ষণে আবহাওয়া অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা জনগণকে জানানো হবে বলে জানিয়েছে।