প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে সরকার পাম তেলের খুচরা দাম লিটারপ্রতি ১৯ টাকা কমিয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতদিন এই তেলের দাম ছিল ১৬৯ টাকা লিটার, যা আজ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং লিটারপ্রতি ১৮৯ টাকাই বজায় থাকবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে পাম তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যার প্রভাব সরাসরি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়েছে। “আপনারা সাধারণত মূল্যবৃদ্ধির খবর বেশি দেখেন; এবার আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের প্রভাব ভোক্তারা সরাসরি উপভোগ করবেন,” মন্তব্য করেন তিনি। তবে সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ কাঁচামালের দাম এখনো কমেনি, ফলে এ মুহূর্তে সয়াবিন তেলের দাম কমানোর সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ১৩ এপ্রিল পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৬৯ টাকা এবং সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার পাম তেলের দাম কমানোয় ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও সয়াবিনের উপর নির্ভরশীল ভোক্তাদের জন্য কোনো স্বস্তির বার্তা আসেনি।
সংবাদ সম্মেলনে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠা নিয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, সরকার পেঁয়াজ আমদানির পরিকল্পনা করছে, তবে তা ভারত থেকে নয়, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে যে দেশ থেকে কম দামে পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই আনা হবে। আমদানির পরিমাণ চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বিবেচনায় নির্ধারণ করা হবে এবং দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে দ্রুতই আমদানি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এ ছাড়া অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার, যার মধ্যে পণ্য খাত থেকে ৫ হাজার ৫০০ কোটি এবং সেবা খাত থেকে ৮৫০ কোটি ডলার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা তুলনামূলকভাবে এ বছর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল রপ্তানি নীতি বাস্তবায়নই এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাম তেলের দাম হ্রাস স্বল্পমেয়াদে ভোক্তাদের স্বস্তি দিলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা এবং দেশে সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজের দাম অস্থির থাকলে খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যচিত্রে চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা থেকে যাবে।