নায়করাজ রাজ্জাককে হারানোর ৮ বছর: বাংলা চলচ্চিত্রের নক্ষত্র আজও ম্লান হয়নি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫
  • ১২৮ বার
নায়করাজ রাজ্জাককে হারানোর ৮ বছর: বাংলা চলচ্চিত্রের নক্ষত্র আজও ম্লান হয়নি

প্রকাশ: ২১ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাকের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার দাফন করা হয় ২৩ আগস্ট বনানী কবরস্থানে। রাজ্জাককে হারিয়ে যে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল দেশের শোবিজ অঙ্গনে, তা আজও পূর্ণ হয়নি।

রাজ্জাক বাংলা চলচ্চিত্রে সাড়ে ছয় দশকের বেশি সময় ধরে নিখুঁত অভিনয় দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তার জন্ম হয়েছিল ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জে। ১৯৬৪ সালে তিনি পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন। অভিনয় ও চলচ্চিত্রচর্চার প্রতি তার অনুরাগ তাকে দ্রুত সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়।

তিনি চলচ্চিত্রকার আবদুল জব্বার খানের সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে ক্যারিয়ার শুরু করেন। নায়ক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’ ছবিতে। এরপর তিনি কখনও পেছনে ফিরে তাকাননি। ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন ১৬টি চলচ্চিত্র।

রাজ্জাক শুধুমাত্র এপার বাংলাতেই নয়, ওপার বাংলাতেও তার অভিনয়দক্ষতা সমাদৃত। ঢালিউডে তখন যেসব সিনেমায় অশ্লীলতা প্রবেশ করছিল, সেই সময় তিনি টলিউডে পা রাখেন এবং পাঁচ বছর ধরে কলকাতার ৩০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন। ওপার বাংলায় জন্ম হলেও এপার বাংলার রূপালি পর্দাতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন নায়করাজ।

রাজ্জাক অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বেহুলা’, ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘এতুটুকু আশা’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘নাচের পুতুল’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘অবুঝ মন’, ‘রংবাজ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘গুন্ডা’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘অশিক্ষিত’, ‘ছুটির ঘন্টা’, ‘মহানগর’, ‘রাজলক্ষী শ্রীকান্ত’, ‘স্বরলিপি’, ‘বাদী থেকে বেগম’, ‘বাবা কেন চাকর’ ইত্যাদি।

দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনে তিনি সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে। ২০১৫ সালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে সাতবার, যা একটি বিরল রেকর্ড। তার ঝুলিতে অসংখ্য স্বীকৃতি ও সম্মাননা আজও তাকে চলচ্চিত্রের অমর নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখে।

রাজ্জাকের ব্যক্তিত্ব, অভিনয় ও চলচ্চিত্রচর্চা আজও নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও দর্শকদের জন্য প্রেরণার উৎস। তার অবদান বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে এবং তার স্মৃতি চিরদিন জীবন্ত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত