প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত ও বহুল সমালোচিত অভিনেতা এবং প্রযোজক অনন্ত জলিল জানালেন, খুব শিগগিরই তিনি সিনেমা থেকে বিদায় নেবেন। এক সময়কার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী থেকে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটানো এই নায়ক দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে সিনেমায় সক্রিয় ছিলেন। নিজের প্রযোজনার সিনেমার মাধ্যমেই তিনি নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে অভিনেত্রী আফিয়া নুসরাত বর্ষার সঙ্গে জুটি বেঁধে বেশ কিছু ছবি উপহার দেন।
২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘খোঁজ: দ্য সার্চ’ সিনেমার মধ্য দিয়ে প্রথমবার অনন্ত ও বর্ষা একসঙ্গে পর্দায় আসেন। এরপর টানা প্রায় এক দশকে তারা ‘হৃদয় ভাঙা ঢেউ’, ‘দ্য স্পিড’, ‘মোস্ট ওয়েলকাম’, ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’, ‘মোস্ট ওয়েলকাম ২’, ‘দিন দ্য ডে’, ‘কিল হিম’সহ প্রায় দশটি সিনেমায় অভিনয় করেন। সিনেমাগুলো বাণিজ্যিকভাবে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও নানান কারণে দর্শকদের আলোচনায় ছিলেন এই জুটি। শুধু সিনেমাই নয়, ব্যক্তিজীবনেও তাদের সম্পর্কের পরিণতি ঘটে ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর, যখন তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।
কিছুদিন আগে অনন্ত জলিলের স্ত্রী ও সহশিল্পী বর্ষা ঘোষণা দেন, হাতে থাকা কয়েকটি সিনেমার কাজ শেষ করেই তিনি চলচ্চিত্র থেকে সরে যাবেন। এর অল্প সময় পর অনন্ত জলিলও জানালেন, তিনি নিজেও চলচ্চিত্র ছাড়বেন। তবে তার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ। বিশেষ করে সন্তানদের ভবিষ্যত এবং তাদের ইসলামি শিক্ষার বিষয়টিকে সামনে এনেছেন তিনি।
অনন্ত জলিল বলেন, “আমাদের দুই ছেলে আছে। একজনের বয়স ১০ বছর, অন্যজনের বয়স সাড়ে ৭। তারা ইংরেজি মাধ্যমের পাশাপাশি আরবি ও ইসলামি পড়ালেখাও করছে। স্কুল শেষে তারা মাদরাসায় যায় এবং সন্ধ্যায় বাসায় ফেরে। তাদের জীবন খুব ব্যস্ত হয়ে উঠছে। বর্ষা যদি সিনেমা করে আর ওরা ইসলামি পড়াশোনা করে, তাহলে এটা তাদের জন্য মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। আমিও চাই না, সন্তানরা যখন ইসলামি শিক্ষার পথে এগোবে, তখন আমরা সিনেমার সঙ্গে যুক্ত থাকি। সেটি আমাদের পরিবার ও সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য ভালো হবে না।”
এদিকে বর্ষা ও অনন্ত অভিনীত দুটি বড় বাজেটের সিনেমা—‘দ্য স্পাই’ ও ‘নেত্রী: দ্য লিডার’—এখনও নির্মাণাধীন। অনন্ত জলিল জানান, এ ছাড়া হাতে আরও দুই-তিনটি কাজ রয়েছে, যেগুলোর কিছুটা অংশ শেষ হয়ে গেছে এবং কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ করেই তিনি চলচ্চিত্রকে বিদায় জানাবেন। ব্যবসার প্রতি মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন এই নায়ক। তার ভাষ্যে, “করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ব্যবসায় অনেক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এখন আমাকে ব্যবসার দিকেই বেশি সময় দিতে হবে, নইলে এত বড় কর্মসংস্থান টিকে থাকবে না।”
সিনেমা থেকে সরে যাওয়ার এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে অনন্ত জলিল কার্যত তার অভিনয়জীবনের ইতি টানার ইঙ্গিত দিলেন। চলচ্চিত্রপাড়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্ত-সমালোচক সবার মধ্যেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তার সিদ্ধান্তকে সন্তানের ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্বশীলতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, অনন্ত ও বর্ষার জুটির বিদায়ে ঢাকাই চলচ্চিত্র আরেকটি আলোচিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।