প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা পপি আজ উদযাপন করছেন তার জন্মদিন। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত আলোচিত সিনেমা কুলি দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। সেই সিনেমার গান আকাশেতে লক্ষ তারা চাঁদ কিন্তু একটারে তৎকালীন সময়ে গ্রামীণ মফস্বল থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। প্রথম ছবিতেই অভিনয় আর গ্ল্যামার দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। এর সুবাদেই পপির পরবর্তী চলচ্চিত্র যাত্রা কিছুটা হলেও সহজ হয়ে ওঠে।
তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী এ তারকার সর্বশেষ অভিনীত সিনেমা ছিল ডাইরেক্ট অ্যাটাক। তবে বর্তমানে তিনি অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে সরে ব্যক্তিগত জীবনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। জানা গেছে, তার অভিনীত কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র সিনেমার কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও তিনি নিজে আবার চলচ্চিত্রে ফিরবেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত করেননি। বর্তমানে স্বামী আদনান ও একমাত্র সন্তান আয়াতকে নিয়ে সংসারেই সুখে সময় কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পপি।
জন্মদিন উপলক্ষে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আগে জন্মদিন ছিল তার কাছে দিনব্যাপী উৎসবের মতো। প্রিয়জন থেকে শুরু করে অগণিত ভক্তের ফোন, ফুল ও কেক পাঠানো, ফ্যান ক্লাবগুলোর নানান আয়োজন তাকে অভিভূত করতো। কখনো কখনো শুটিং সেটেই উৎসবমুখরভাবে জন্মদিন উদযাপন করতেন। তবে এবারের জন্মদিন তিনি কাটাচ্ছেন অনেকটাই ঘরোয়াভাবে। নিজস্ব কিছু এতিমখানায় কোরআন খতম ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজনের মধ্য দিয়েই বিশেষ দিনটি পালন করছেন তিনি।
ভক্তদের উদ্দেশ্যে বার্তায় পপি জীবনের বাস্তবতা থেকে পাওয়া তার উপলব্ধি শেয়ার করেন। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য দায়িত্ব পালন করতে হবে, কিন্তু আগে নিজের অবস্থান শক্ত করতে হবে। নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে অন্যদের জন্য নিবেদিত হলে ভবিষ্যতে আঙুল তোলা হতে পারে। তাই ভক্তদের তিনি পরামর্শ দিয়েছেন নিজের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে তারপর পরিবার ও সমাজের প্রতি কর্তব্য পালনের জন্য। তার মতে, একজন মানুষের দেয়া সঠিক পরামর্শ অন্যের জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
কিছুটা আক্ষেপের সুরে তিনি উল্লেখ করেন, পরিবারের কাছ থেকে তিনি প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। বরং কঠিন সময়ে অপবাদ ও আঘাতের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীরাই তাকে সেই সময়ে পাশে দাঁড় করিয়েছেন, যা আজও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। স্বামী আদনানকে জীবনের সবচেয়ে বড় বন্ধু আখ্যায়িত করে পপি বলেন, তিনি তাকে আগলে রেখেছেন, সাহস দিয়েছেন এবং সবসময় সমর্থন করেছেন। পাশাপাশি তিনি গণমাধ্যমকেও আহ্বান জানান সত্য প্রকাশে আপোসহীন থাকার জন্য, কারণ মিথ্যা সংবাদ কেবল বিভ্রান্তিই ছড়ায়।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পপি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা। দরদী সন্তান, চারিদিকে শত্রু, অন্যায় আবদার, এই মন তোমাকে দিলাম, মানুষ মানুষের জন্য, প্রাণের প্রিয়তমা, কারাগার, লাল বাদশা, ভালোবাসার ঘর, জীবন মানেই যুদ্ধ, আমার ঘর আমার বেহেস্ত, নারীরাও প্রতিবাদী, রানী কুঠির বাকী ইতিহাস, শ্রেষ্ঠ সন্তান, মেঘের কোলে রোদ, গঙ্গাযাত্রাসহ অসংখ্য ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন নিজেকে।
২০০৩ সালে কালাম কায়সারের পরিচালিত কারাগার সিনেমায় প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। পরে নারগিস আক্তারের মেঘের কোলে রোদ এবং সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের গঙ্গাযাত্রা সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আরও দু’বার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কারে ভূষিত হন।
আজ জন্মদিনে ভক্তদের ভালোবাসা আর শুভেচ্ছার মধ্যে দিয়ে অতীতের সাফল্য ও অভিজ্ঞতা স্মরণ করছেন পপি। তিনি চান তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠুক।