প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাদের হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৭২ জন নিহত এবং আরও ৩৫৬ জন আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। নিহত ও আহতদের মধ্যে অনেকেই ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। Specifically, নিহতদের মধ্যে নয়জন এবং আহতদের মধ্যে ৮৭ জন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এ খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই সংঘাতের ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিনের খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজন মারা গেছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও জানিয়েছে, চলমান অবরোধ এবং সীমান্ত বন্ধের কারণে গাজার ২৪ লাখ মানুষ মারাত্মক খাদ্য সংকটের মধ্যে রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় দুর্ভিক্ষে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৪১১ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১৪২ জন শিশু।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে নিহতের সংখ্যা বর্তমানে ২ হাজার ৪৬৫ জনে পৌঁছেছে। আহতের সংখ্যা অন্তত ১৭ হাজার ৯৪৮ জন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দুই পক্ষকে মানবিক বিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
এ বছরের মার্চের শুরু থেকে ইসরাইল গাজার সব সীমান্ত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে এলাকার একাংশ মারাত্মক দুর্ভিক্ষ এবং খাদ্য ও ওষুধের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, অবরোধ ও চলমান হামলার কারণে গাজার স্বাস্থ্য ও মানবিক অবস্থা ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।
ফিলিস্তিনে চলমান এই সংকটের ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক বিপদের মধ্যে পড়েছে। শিশু, বয়স্ক এবং অসহায় মানুষরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও নিরাপত্তার অভাবে তাদের জীবন ধ্বংসের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ঘটনায় দায়িত্বশীল রাষ্ট্রগুলোর প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং অবিলম্বে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
গাজার মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে এটি এক গভীর সংকেত যে, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকট, সীমান্ত অবরোধ এবং চলমান হামলার ফলে ন্যূনতম মানবিক পরিস্থিতি বজায় রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এ সংকটের অবসান না হলে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিনের জীবন বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।