আজকের স্বর্ণের দাম: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৩ বার
আজকের স্বর্ণের দাম: ১৭ নভেম্বর ২০২৫–এ কমেছে বাজারে**

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও নতুন সমন্বয় এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে টানা আট দফা মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে দাম কিছুটা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ সমন্বয়ের পর শনিবার ২০ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বাজারে নতুন দামে সোনা বিক্রি হবে। যদিও এই হ্রাস খুব বড় নয়, তবে কয়েক মাসের অব্যাহত বৃদ্ধির পর এই ঘোষণা বাজারে স্বস্তির বাতাস বইয়ে দিয়েছে।

বর্তমান দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকায়। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬০২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি প্রতি ভরি সোনা পাওয়া যাচ্ছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৪ টাকায়। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুক্ত হবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি। তবে গহনার মান, নকশা ও কারুকার্যের ভিন্নতার কারণে মজুরিতে তারতম্য হতে পারে।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাজুস এক দফা দাম বাড়িয়েছিল। সেদিন ভরিতে ৩ হাজার ৬৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা। সেটিই এতদিন ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য। নতুন সমন্বয়ের ফলে দাম কিছুটা কমলেও এখনও তা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে। অর্থাৎ, সোনার বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকছে, যদিও ক্রেতাদের মধ্যে আশা জেগেছে যে সামনের দিনগুলোতে হয়তো আরও কিছুটা হ্রাস আসতে পারে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত মোট ৫৪ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বেড়েছে এবং মাত্র ১৭ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার সোনার দাম পরিবর্তন হয়েছিল, যেখানে ৩৫ বার বেড়েছিল এবং ২৭ বার কমেছিল। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে সোনার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই ছিল প্রাধান্যশীল।

সোনার দাম ওঠানামার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব একটি বড় কারণ। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন, ডলারের বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে সোনার মূল্য বাড়ছে বা কমছে। বাংলাদেশে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ডলারের সংকট ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া। সব মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম অনেক সময় আন্তর্জাতিক মূল্যের তুলনায় বাড়তি অবস্থানে পৌঁছে যায়।

অন্যদিকে রুপার দাম দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও বর্তমানে সেটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম বর্তমানে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, যা রুপার বাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চ মূল্য। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩১৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৮৪৬ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও সোনার মতো রুপার দাম বারবার ওঠানামা করে না, তবে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাহিদা ও মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা এর মূল্যেও প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, আন্তর্জাতিক বাজারে যদি ডলারের মান শক্তিশালী হতে থাকে তবে সোনার দাম আরও কমতে পারে। তবে বিশ্বে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা যেকোনো বড় ধরনের সংঘাত হলে উল্টোভাবে সোনার দাম বাড়তে পারে। কারণ এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনায় বিনিয়োগ করে থাকেন। সেই কারণে দেশীয় বাজারে স্থিতিশীলতা আনা খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।

এদিকে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বিষয়টি হয়ে উঠছে জটিল। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গহনা কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। দাম আরও কমতে পারে ভেবে তাঁরা অপেক্ষা করছেন, আবার দাম আরও বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় অনেকেই তাড়াহুড়ো করে কিনে ফেলছেন। এতে বাজারে চাহিদা কখনও হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে, আবার কখনও তা কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, ক্রেতাদের অনিশ্চয়তার কারণে বিক্রির ধারা একেবারে স্থিতিশীল রাখা যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা কমাতে হলে প্রথমে মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ ডলারের মান প্রতিদিন ওঠানামা করলে স্বর্ণ আমদানির খরচও প্রতিদিন ভিন্ন হয়। এর পাশাপাশি কর ও শুল্কনীতিতেও স্বচ্ছতা ও স্থায়িত্ব আনতে হবে। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি একটি নীতিমালা ছাড়া এই অস্থিরতা সামলানো সম্ভব নয়।

সবশেষে বলা যায়, আজ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে সোনার দাম কিছুটা কমলেও বাজার এখনও অনেকটা অস্থিতিশীল। ক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই ওঠানামা একদিকে যেমন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে অনিশ্চয়তাও বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, মুদ্রাবাজারের অবস্থা এবং সরকারের নীতি—সবকিছুই আগামী দিনে বাংলাদেশের স্বর্ণ বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে। আর তাই আজকের এই স্বস্তির খবর সত্ত্বেও সবাই তাকিয়ে আছে সামনের দিনের দিকে, যেখানে হয়তো আবার নতুন কোনো সমন্বয় বা রেকর্ড ভাঙার ঘটনা ঘটতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত