প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢালিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার বড় পর্দা থেকে দূরে আছেন। একসময়ের চিরচেনা লাস্যময়ী রূপ, যার জন্য দর্শকরা তাঁকে হারিয়ে বেশ কিছুটা শূন্যতা অনুভব করেছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করার পরও তিনি মূলধারার সিনেমা থেকে অনেকটা দূরে চলে গেছেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত নিজেকে সেই চিরচেনা রূপে উপস্থাপন করলেও সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা তাঁকে আবার বড়পর্দায় দেখতে উদগ্রীব।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পূর্ণিমা বলেন, “ভালো গল্প আর মানসম্মত চরিত্র পেলে এখনো আমি কাজ করতে রাজি। কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তা অনেকটা হতাশাজনক। ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে অনেক মেধাবী শিল্পী সুযোগ পাচ্ছেন না। এটি আমার জন্যও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
ঢালিউডে সিন্ডিকেটের প্রভাব বহু বছর ধরেই রয়েছে। এমন একটি শক্তিশালী গ্রুপ, যারা সব বড় প্রজেক্টে নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং নিজেদের সদস্যদের প্রথম সারিতে সুযোগ দেয়। পূর্ণিমা বলেন, “ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করার আগ্রহ আমার রয়েছে, কিন্তু সেখানে যে সিন্ডিকেট রয়েছে, তারা নতুন বা বাইরের কাউকে সহজে জায়গা দেয় না। যারা ওই দলে আছে, তারা সবসময় সুযোগ পায়। অথচ অনেক মেধাবী শিল্পী আছেন, যারা সত্যিই ভালো কাজ করতে পারেন, তাদের সেই সুযোগ দেওয়া উচিত।”
তিনি আরো বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে একজন শিল্পী হিসেবে মনোবল হারানো স্বাভাবিক। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা থেকে দূরে থাকা মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমার প্রাপ্য সম্মান এবং শক্তিশালী গল্প পেলে আমি আবার অভিনয়ে নতুন উদ্যম খুঁজে পাব। আমি চাই দর্শকরা আমাকে সেই পূর্ণিমা হিসেবে দেখতে যেভাবে আগে দেখেছেন।”
সম্প্রতি পূর্ণিমা উল্লেখ করেছেন, তিনি ‘মহানগর’, ‘কারাগার’ এবং ‘গোলাম মামুন’-এর মতো কাজগুলোতে অভিনয় করতে পেরে বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি মনে করেন, এ ধরনের মানসম্মত গল্পে সুযোগ পেলে তিনি আবারও অভিনয়ে নতুন প্রাণ ফিরে আনতে পারবেন। “আমি চাই দর্শকরা আবারও আমাকে বড়পর্দায় দেখুক, যেন সেই আগের সময়ের উচ্ছ্বাস ফিরে আসে,” তিনি বলেন।
ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি এবং সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি অনেক প্রতিভাবান শিল্পীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শুধুমাত্র সংযোগ বা পরিচিতির ভিত্তিতে সুযোগ পাওয়া এবং নতুন প্রতিভার উপেক্ষা করা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকর। তারা মনে করেন, এ ধরনের প্রথা ভাঙতে পারলে শিল্পী এবং দর্শক উভয়েরই জন্য ভালো হবে। পূর্ণিমার মতো অভিনেত্রী যারা দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের মনে জায়গা করে রেখেছেন, তাদের ফিরে আসা চলচ্চিত্রের মান ও দর্শক আকর্ষণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণিমা আগ্রহী হলেও তিনি আশ্বস্ত হতে চান যে তার প্রতিভা অনুযায়ী সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমি চাই কোনো বাধা ছাড়াই গল্প এবং চরিত্রের মান বিচার করে সুযোগ পাই। সিন্ডিকেট যদি বিরত না রাখে, তাহলে এই ইন্ডাস্ট্রি নতুন প্রাণ ফিরে পাবে। আমার জন্যও এটি নতুন উদ্দীপনা আনবে।”
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে পূর্ণিমার উপস্থিতি নজর কাড়ছে। তিনি নিয়মিত ফটোশুট, ব্যাক্তিগত ছবি এবং নিজের ভক্তদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তিনি দর্শকের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখছেন, যা নতুন প্রজেক্টে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থন আমাকে নতুন করে কাজ করার শক্তি দেয়। আমি চাই সেই শক্তি বড়পর্দায়ও ফুটে উঠুক।”
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পূর্ণিমার মতো অভিজ্ঞ এবং দক্ষ অভিনেত্রীর জন্য বড়পর্দায় ফেরার সুযোগ তৈরি করা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক হবে। নতুন গল্প, মানসম্মত স্ক্রিপ্ট এবং দক্ষ পরিচালকের সঙ্গে কাজ করলে তিনি আবারও দর্শকের মন জয় করতে সক্ষম হবেন। ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য শিল্পীরাও আশাবাদী যে সিন্ডিকেটের প্রভাব কিছুটা কমানো গেলে প্রতিভাবান অভিনেতাদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে।
পূর্ণিমার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি এখনো সিনেমায় তার প্রভাব দেখাতে এবং দর্শক হৃদয় জয় করতে আগ্রহী। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন, কিন্তু তা হতাশায় রূপান্তরিত হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, সময় এবং সুযোগ পেলে আবারও অভিনয়ে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন। তিনি বলেন, “আমি এখনো বিশ্বাস করি, ভালো গল্প এবং চরিত্র আমাকে আবারও বড়পর্দায় ফিরিয়ে আনবে। আমি সেই অপেক্ষায় আছি।”
সিন্ডিকেটের কারণে যেসব শিল্পী পিছিয়ে পড়ছেন, তারা একদিকে হতাশা অনুভব করলেও অন্যদিকে পূর্ণিমার মতো শিল্পীরা আশাবাদী। পূর্ণিমা তাঁর সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে নতুন প্রজেক্টে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত এবং ভালো গল্প পেলে তিনি আবারও দর্শকদের মুগ্ধ করতে পারবেন।
উপসংহারে বলা যায়, ঢালিউডের এই প্রখ্যাত অভিনেত্রী দীর্ঘদিনের থেমে থাকা ক্যারিয়ার থেকে পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা রাখেন। তিনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত এবং আশাবাদী যে সঠিক গল্প ও চরিত্রের মাধ্যমে তিনি আবারও দর্শকের মন জয় করতে সক্ষম হবেন। পূর্ণিমার মতো অভিনেত্রীদের জন্য সিন্ডিকেটের বাধা কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন, যাতে শিল্পী ও ইন্ডাস্ট্রির উভয়ই উন্নতি সম্ভব হয়। দর্শকরা এখন আবারও অপেক্ষায় রয়েছেন, বড়পর্দায় পূর্ণিমার ফিরে আসার জন্য, যেখানে তার স্বতন্ত্র অভিনয়, আবেগ এবং চমকপ্রদ উপস্থিতি নতুন রূপে ফুটে উঠবে।