ড. ইউনূসের প্রতি বিশ্বনেতাদের দৃঢ় সমর্থন ও সহায়তার আশ্বাস

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩১ বার
ড. ইউনূসের প্রতি বিশ্বনেতাদের দৃঢ় সমর্থন ও সহায়তার আশ্বাস

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা ও সমর্থন আরও সুদৃঢ় হলো নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে। শুক্রবার নিউ ইয়র্কের একটি অভিজাত হোটেলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং মানবাধিকারকর্মীরা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে ড. ইউনূস ও তার সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। বৈঠকে উপস্থিত নেতারা শুধু রাজনৈতিক সমর্থনই নয়, বরং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতারও প্রতিশ্রুতি দেন।

সভায় নেতৃত্ব দেন লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিজামী গঞ্জাভি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের (এনজিআইসি) কো-চেয়ার ভাইরা ভিকে-ফ্রাইবারেগা। উপস্থিত ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরুট পাহোর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরিস তাদিচ, লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় পরিষদের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানড্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোজেন প্লেভনেলিভ ও পেটার স্টোয়ানভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আইভো জোসিপোভিচ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্লাডেন ইভানিক এবং মৌরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনাহ গুরিব-ফাকিম।

এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জর্জিয়ার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চার সাবেক প্রেসিডেন্ট, বিভিন্ন দেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক উপ-সভাপতি ও এনজিআইসি’র কো-চেয়ার ইসমাইল সেরাজেলদিন, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ও জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা।

সভায় বক্তারা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আজীবন দারিদ্র্য দূরীকরণ, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সাফল্য এবং সামাজিক ন্যায়ের জন্য নিরলস সংগ্রামের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের সংকটময় মুহূর্তে ড. ইউনূসের মতো একজন নোবেল বিজয়ীর নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। একজন আন্তর্জাতিক নেতা বলেন, “আমরা এখানে আপনার এবং বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছি। আমরা সম্পূর্ণভাবে আপনার সমর্থনে।”

নেতারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির পাশাপাশি দীর্ঘ ১৬ বছরের দুর্নীতি, অদক্ষতা ও শোষণের কারণে দেশটির যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, সেটিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। কয়েকজন নেতা বিশেষভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে, বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তারা বহুমুখী সহযোগিতা প্রদান করবেন।

রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি বলেন, “মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা অসাধারণ।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে এই ধারা আরও এগিয়ে যাবে। এছাড়া জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক মেলান ভেরভিয়ার ঘোষণা দেন যে প্রতিষ্ঠানটি শিগগিরই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানাবে। এনজিআইসি’র কো-চেয়ার ইসমাইল সেরাজেলদিন বলেন, “আপনাদের প্রয়োজনেই আমরা আছি। আন্তর্জাতিক মহল সর্বদা বাংলাদেশের পাশে থাকবে।”

বিশ্বনেতাদের অভূতপূর্ব সমর্থনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আপনাদের একত্রিত হয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ানো সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি সত্যিই মুগ্ধ।” নিজের বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটকে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “এই দেশ ১৫ বছর ধরে এক ধরনের ভূমিকম্পের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৯।”

ড. ইউনূস স্বীকার করেন, সাধারণ মানুষ এখন অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের সীমিত সম্পদের কারণে অলৌকিক রূপান্তর সম্ভব নয়, তবুও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে তাঁর সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অপরিহার্য। তার ভাষায়, “আমরা আপনার দিকনির্দেশনা, সমর্থন এবং নৈতিক শক্তি চাই।”

বিশ্বনেতাদের এই সমর্থন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শুধুমাত্র আর্থিক বা প্রযুক্তিগত সহায়তা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আস্থার প্রতীক। দেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে, তারা এই সমর্থনকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করবে।

সভায় উপস্থিত এসডিজি কো-অর্ডিনেটর লামিয়া মোর্শেদ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

 

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে ঘিরে বিশ্বনেতাদের একত্রিত সমর্থন প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও টেকসই উন্নয়নের যাত্রায় পাশে থাকবে। ড. ইউনূসের অভিজ্ঞতা, সততা ও বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশের জন্য এক অমূল্য সম্পদ। এখন দেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং নির্ধারিত সময়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। বিশ্বনেতাদের দৃঢ় সমর্থন বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত