“গাজায় গণহত্যা নিয়ে সরব জেনিফার লরেন্স”

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার
“গাজায় গণহত্যা নিয়ে সরব জেনিফার লরেন্স”

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স গাজায় চলমান যুদ্ধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সরব হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের গাজায় যা ঘটছে তা গণহত্যার চেয়ে কোনোভাবেই কম নয়। স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানিয়ে বলেন, “আমি সত্যিই ভীত। যা ঘটছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এটি স্পষ্টভাবে গণহত্যা। আমি আমার এবং আমাদের সবার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত।”

শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যখন উৎসব কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের গাজা প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে অনুরোধ করেন, তখন লরেন্স স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার বক্তব্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মানবতার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধকে উপেক্ষা করা মানে নিজেকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া। পৃথিবীর যে প্রান্তেই এমন ঘটনা ঘটুক না কেন, একদিন এর প্রভাব অন্যত্রও পড়বে।”

লরেন্স এবার সান সেবাস্তিয়ানে এসেছেন তার নতুন সিনেমা ডাই মাই লাভ–এর প্রদর্শনীতে অংশ নিতে এবং মর্যাদাপূর্ণ দোনস্তিয়া অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করতে। তবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানকে ঘিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনটি দ্রুতই আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় রূপ নেয়। অভিনেত্রী যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, “আমাদের দেশে এখন সততার চরম অভাব। রাজনৈতিক নেতারা মিথ্যা বলেন, তারা জনগণের কষ্ট বুঝতে চান না। তাদের মধ্যে কোনো সহানুভূতি নেই।”

তিনি আরও যোগ করেন, তরুণ প্রজন্ম এমন এক বাস্তবতায় বেড়ে উঠছে যেখানে নীতি ও নৈতিকতা অবজ্ঞার শিকার। লরেন্স মনে করেন, চলচ্চিত্র উৎসবগুলো এখন কেবল শিল্প বিনোদনের মঞ্চ নয়, বরং মতপ্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তার ভাষায়, “আজকের পৃথিবীতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই হুমকির মুখে। তাই এই উৎসবগুলো আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। এখানে আমরা একে অন্যের গল্প শুনি, পর্দায় দেখি, শিখি এবং ভিন্ন অভিজ্ঞতা বিনিময় করি। এটি সবার জন্য মূল্যবান।”

বিশ্বব্যাপী খ্যাতিমান এই অভিনেত্রীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গাজার চলমান মানবিক সংকট নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং কর্মী বহুদিন ধরেই সরব, তবে একজন হলিউড তারকার এ ধরনের সরাসরি মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, তার বক্তব্য শুধু গাজা নয়, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিল্পীদেরও সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

এর আগে লরেন্স যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়েও একাধিকবার মত প্রকাশ করেছিলেন। তবে গাজা প্রসঙ্গে তিনি যে সরাসরি “গণহত্যা” শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মার্কিন রাজনৈতিক মহলে ইসরায়েল প্রসঙ্গে সাধারণত ভিন্নমত প্রকাশ করলে তা বিতর্ক তৈরি করে, কিন্তু লরেন্স সেই বিতর্ককে পরোয়া না করে নিজের মানবিক অবস্থান তুলে ধরেছেন।

গাজা পরিস্থিতি বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং মৌলিক মানবিক সেবাগুলো কার্যত ভেঙে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনের একজন তারকার এই সরব অবস্থান ফিলিস্তিনিদের প্রতি বৈশ্বিক সহমর্মিতা বাড়াবে বলে অনেকে মনে করছেন।

লরেন্সের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এটি একটি বিতর্কিত অবস্থান যা তাকে রাজনৈতিকভাবে কঠিন চাপে ফেলতে পারে। তবে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। বরং তার বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি গভীর বার্তা—মানবতার প্রশ্নে নিরপেক্ষ থাকা মানে সহিংসতাকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করা।

জেনিফার লরেন্সের মতো জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী একজন শিল্পীর পক্ষ থেকে গাজার গণহত্যা প্রসঙ্গে স্পষ্ট অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে মানবাধিকারের আলোচনাকে আরও উসকে দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তার বক্তব্য প্রমাণ করেছে, শিল্পী বা তারকারা শুধু বিনোদনের সীমানায় আবদ্ধ নন, তারা চাইলে মানবতার পক্ষে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত