বাংলাদেশ নিন্দা জানিয়েছে ফ্লোটিলার ওপর ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
বাংলাদেশ গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ওপর ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ সরকার গভীর নিন্দা জানিয়েছে গাজার উদ্দেশ্যে মানবিক সহায়তা বহনকারী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকানোর ঘটনায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে ফ্লোটিলার সব মানবিক সহায়তাকর্মী ও কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী এই ফ্লোটিলাকে আটক করেছে যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ এটিকে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এটিকে ক্ষুধাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার উদাহরণ হিসেবে দেখেছে। দেশের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে এবং গাজার ওপর অব্যাহত অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

বাংলাদেশের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মানবিক সহায়তা বহর ফিলিস্তিনিদের প্রতি বৈশ্বিক সংহতির প্রতীক। গাজার বেসামরিক জনগণ দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক অধিকার, জীবিকা এবং মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং সহায়তা অপরিহার্য। তাই ফ্লোটিলাকে গাজায় প্রবেশের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ সবসময় ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে অবস্থান করছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান মানবিক দুর্দশার মুহূর্তে বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে অটল সংহতি বজায় রাখছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফিলিস্তিনের জনগণকে রক্ষা ও সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছে।

ফ্লোটিলার আটক সংক্রান্ত বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইতোমধ্যেই এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ফ্লোটিলার মুক্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরা হবে, যাতে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধ হতে বাধ্য করা যায়।

ফ্লোটিলার মাধ্যমে গাজার বেসামরিক মানুষদের কাছে খাদ্য, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নেতিবাচক বার্তা প্রেরণ করছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সহায়তা বহরকে গাজায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া মানবিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য।

বাংলাদেশ সরকারের নিন্দা কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি মানবিক দায়িত্ববোধেরও প্রকাশ। দেশের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সহমর্মিতা ও সমর্থন জোরালোভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক অধিকার এবং ফিলিস্তিনি জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি জনগণকে অব্যাহত মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে এবং এই ধরনের বাধা পুনরায় এড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্যোগী হতে হবে।

ফ্লোটিলার আটক প্রেক্ষাপটটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজরেও এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এবং সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। এটি ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের মানবিক ও নৈতিক দিকগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তা বহরকে বাধাগ্রস্ত করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি মানবিক সংকটের মাত্রা আরও বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক ফোরামে এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং ফ্লোটিলার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হবে।

ফিলিস্তিনে চলমান সংকটের মধ্যে এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার রক্ষার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফ্লোটিলার সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গাজার জনগণের পাশে অটল সংহতি দেখানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থনযোগ্য ও অপরিহার্য। বাংলাদেশ এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।

পরিস্থিতি যতই জটিল হোক, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ফ্লোটিলার সদস্যদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং তাদের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করা অব্যাহত থাকবে। ফিলিস্তিনি জনগণকে সহায়তা পৌঁছানো এবং তাদের মানবিক অধিকার রক্ষা করা বাংলাদেশের জন্য একটি নৈতিক ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংক্ষেপে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা এবং বেসামরিক জনগণকে কষ্ট দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফ্লোটিলার নিঃশর্ত মুক্তি এবং গাজার মানুষের প্রতি সহায়তা পৌঁছানোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত