প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ একশ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতারা। তারা জানিয়েছেন, এই আগুন শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে, বিশেষত তৈরি পোশাক শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রবিবার দুপুরে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক খানের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মিজানুর রহমান, পরিচালক ফয়সাল সামাদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। পরিদর্শন শেষে ইনামুল হক খান সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে জানান, “এই অগ্নিকাণ্ডে তৈরি পোশাক, মূল্যবান কাঁচামাল এবং নতুন ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় স্যাম্পল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এটি কেবল বর্তমান রপ্তানির ক্ষতিই নয়, ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সুযোগকেও ব্যাহত করবে।”
বিজিএমইএর পাশাপাশি নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “রপ্তানি প্রক্রিয়ার এমন সংবেদনশীল স্থানে অগ্নিকাণ্ড ঘটাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি দেশের পোশাক খাতের ভাবমূর্তি ও বিদেশি ক্রেতাদের আস্থার ওপরও প্রভাব ফেলবে।”
ইনামুল হক খান জানান, বিজিএমইএ ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছে। সদস্যদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফরমে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং তথ্য দ্রুত সংগ্রহের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে। তাঁর মতে, “প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক কারখানার পণ্য শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়। তাই ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হতে পারে।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইনামুল হক আরও বলেন, “ভেতরে প্রবেশ করে আমরা ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। পুরো ইমপোর্ট সেকশন পুড়ে গেছে। আমরা অনুমান করছি, মোট ক্ষতির পরিমাণ এক বিলিয়ন (অর্থাৎ একশ কোটি) টাকারও বেশি হতে পারে।” তিনি জানান, সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে শিগগিরই বিজিএমইএ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা করবে।
প্রসঙ্গত, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে এই অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ রপ্তানিযোগ্য পোশাক, কাঁচামাল ও নথিপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এতে দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে তাৎক্ষণিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দুর্ঘটনা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি নির্ভরযোগ্যতার জন্যও এক বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।