সম্পর্কের টানাপোড়ন জামাত- এনসিপি, তোপ বিএনপির উপর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৪ বার
সম্পর্কের টানাপোড়ন জামাত - এনসিপি, তোপ বিএনপির উপর

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হঠাৎ সৃষ্ট বিরোধ। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে মতপার্থক্যের জেরে দুই দলের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। একই সঙ্গে এনসিপি বিএনপির প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

দলীয় এক বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের সাম্প্রতিক আন্দোলনকে “প্রতারণা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “জনগণের সামনে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের কথা বললেও, বাস্তবে জামায়াত কেবল নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার কৌশল নিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই দুই দলের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

এর আগের দিন নাহিদ ইসলাম বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে তাঁর একটি রাজনৈতিক মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, বিএনপি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে পুরোনো কৌশলেই রাজনীতি করছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই অবস্থান বিএনপির প্রতি এনসিপির রাজনৈতিক দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

অন্যদিকে, এনসিপির এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের এক শীর্ষ নেতা এনসিপির বক্তব্যকে “বালখিল্য” ও “রাজনৈতিক অপরিপক্বতা” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “জামায়াতের রাজনীতি নীতি ও আদর্শনির্ভর। কেউ যদি তা বুঝতে না পারে, সেটা তাদের সীমাবদ্ধতা।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধের মূল কেন্দ্র হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। এনসিপি চায় একটি সর্বজনীন গণপরিষদ গঠন করে সনদ বাস্তবায়ন করা হোক, অন্যদিকে জামায়াত চায় নিম্নকক্ষে ‘পিআর ব্যবস্থা’ বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালু করতে। এই দুটি অবস্থানের পার্থক্য থেকেই তাদের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, তারা শুরু থেকেই চেয়েছিল জামায়াত জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করুক, কিন্তু জামায়াত সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সনদে অংশ নেয়—যা এনসিপির কাছে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

রাজনৈতিক মহল বলছে, সরকার পতনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক দল নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণে ব্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপি ও জামায়াতের মতবিরোধ কেবল আদর্শগত নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জোটবিন্যাসেও প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই বিরোধ যদি আরও গভীর হয়, তাহলে বিরোধী রাজনীতির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জুলাই সনদ এখন নতুন মেরুকরণের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে—যেখানে প্রতিটি দল নিজেদের অবস্থান ও স্বার্থ অনুযায়ী ব্যাখ্যা দিচ্ছে, আর সেই ভিন্ন ব্যাখ্যার ফলেই বিরোধের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত