গ্রেপ্তার: নাসির উদ্দিন সাথী ও ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
গ্রেপ্তার:নাসির উদ্দিন সাথী ও ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর বাড্ডা থানায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথী এবং তার ছেলে, টিভির পরিচালক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, বাড্ডা থানার এসআই গোলাম কিবরিয়া খান, রবিবার আদালতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালতের শোনানি শেষে প্রমাণ এবং তদন্ত প্রতিবেদনের পর বিচারক গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে উভয় আসামিকে অবিলম্বে হাজির করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই মধ্য বাড্ডার ইউলুপ এলাকায় দুর্জয় নামে এক ব্যক্তি আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলনের সময় হামলা চালানো হয়, এবং দুর্জয় গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই চোখ হারিয়ে অন্ধ হয়ে যান। এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯০ জনকে অভিযুক্ত করে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর থেকে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আসামিদের দায় নির্ধারণ করা হবে। উচ্চপ্রোফাইল এই মামলায় আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব বিচার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে না পারে।

এর আগে, ১৭ অগাস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গুলশান থেকে নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২৩ অগাস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২৪ অগাস্ট বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে সিআইডি গ্রেপ্তার করে।翌দিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় এবং রিমান্ড শেষে ৩০ অগাস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মাইটিভি চ্যানেল দেশের বেসরকারি টেলিভিশন মিডিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত। তবে বিভিন্ন সময়ে চ্যানেল ও তার শীর্ষ পরিচালকদের নামে বিতর্কও উঠেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চ্যানেলের কিছু অনুষ্ঠান এবং সাংবাদিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা আবারও মিডিয়ার শীর্ষ পরিচালকদের কার্যকলাপের ওপর কড়া নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রমাণভিত্তিক তদন্তের গুরুত্ব অপরিসীম। তারা বলছেন, সঠিক প্রমাণ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া কোনো ধরনের গ্রেপ্তার বা বিচার প্রক্রিয়া জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না। একই সঙ্গে মামলার ফলাফলের ওপর সাধারণ মানুষের নজর থাকবে, কারণ এটি শুধু ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং গণমাধ্যম ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নেও প্রভাব ফেলে।

বাড্ডা থানার হত্যাচেষ্টা মামলার এই গ্রেপ্তারি উদ্যোগ দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী ধাপে তদন্ত কর্মকর্তারা আরও সাক্ষ্য সংগ্রহ ও প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে আসামিদের আইনানুগ অধিকার রক্ষা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত