নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে: বিএনপি -জামায়াত কোন পথে …

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৯ বার
স্লোগান মুখোমুখি -শিবিরের শুভেচ্ছা, ছাত্রদলের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়তা ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোও নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে সচেষ্ট। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহল বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে দেশের দুই আলোচিত রাজনৈতিক দল—বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীকে ঘিরে।

বিএনপি দেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনৈতিক দল এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ধারার অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটি জনগণের আস্থা অর্জন করেছে, যদিও বিগত কয়েক বছরে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কারণে দলটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবু কূটনৈতিক মহলে বিএনপির ভাবমূর্তি এখনো একটি গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে টিকে আছে। বিদেশি মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে একসময় প্রভাবশালী অবস্থান রাখলেও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দলটি বিতর্কিত হয়ে পড়ে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ, মানবতাবিরোধী অপরাধে দলটির একাধিক শীর্ষ নেতার ফাঁসি ও বিচারের ফলে তাদের সংগঠন ও রাজনৈতিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। বর্তমানে দলটি  সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে  ইসলামপন্থী একটি আদর্শিক ঘরানা হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা একেবারে নিঃশেষ হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি কূটনীতিকরা এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চাইছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তারা ধাপে ধাপে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং ইসলামপন্থী ঘরানার দল জামায়াত ইসলামী উভয়ের সঙ্গেই বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে দেশের নির্বাচনী পরিবেশ, মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণতন্ত্রের চর্চা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিএনপি ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। দলটি বারবার দাবি করে আসছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন অপরিহার্য। অন্যদিকে জামায়াত ইসলামীও সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দলটি ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি জনগণের আবেগকে কাজে লাগানোর কৌশল নিয়েছে, যদিও তাদের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা বেড়েছে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশি কূটনীতিকদের সক্রিয়তা কেবল সৌজন্য নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চায়, এদেশে যেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর সেই নির্বাচন যেন সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে হয়—এটাই এখন কূটনৈতিক মহলের প্রধান বার্তা।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা সবসময় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তারা মনে করে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের একমাত্র পথ নির্বাচনের মাধ্যমেই আসতে পারে, কিন্তু সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে জামায়াত ইসলামী বলছে,  গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার রাজনীতিতে বহুমাত্রিক অংশগ্রহণই দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি ও জামায়াতের ভবিষ্যৎ অবস্থান এখনো অনিশ্চিত।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখতে হলে জনগণের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপি এখনো কূটনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, কিন্তু তাদের মাঠের শক্তি কমেছে। অন্যদিকে জামায়াতের রাজনৈতিক মূলধন অনেকটাই তাদের ধর্মীয় আদর্শভিত্তিক আধুনিক ধারার সংমিশ্রণ ভোটব্যাংক মজুত আছে।

এমন এক প্রেক্ষাপটে বিদেশি সংস্থা ও দূতাবাসগুলো যখন দুই দলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে, তখন অনেকেই মনে করছেন—এই যোগাযোগ কেবল নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়েও আন্তর্জাতিক আগ্রহের প্রতিফলন।

যা-ই হোক, দেশের জনগণই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে কে তাদের নেতৃত্ব দেবে। গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার এই লড়াইয়ে বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্যান্য দল—সবার দায়িত্বই জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কারণ, জনগণই দেশের প্রকৃত নীতিনির্ধারক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত