প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
আজ, ২২ অক্টোবর ২০২৫, বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে নতুন দামের ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে সার্বিকভাবে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন হিসাব অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৫৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫ টাকা। এই দাম নির্ধারণে বাজুস জানিয়েছে যে, বিক্রয়ের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন, ওজন ও মানভেদে মজুরির ক্ষেত্রে সামান্য তারতম্য হতে পারে।
স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশজুড়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দর বাড়ানোর পেছনের মূল কারণ। সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারের ওঠানামা ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন এই প্রভাবকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। দেশের বিনিয়োগকারীরাও সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা স্বর্ণের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এদিকে, দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার এক ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ২০৫ টাকায়, যা রুপার ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম হিসেবে ধরা হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯১৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৮০২ টাকায়।
বাজুসের তরফে জানানো হয়েছে, স্বর্ণ ও রুপার বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সহযোগিতা অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারও প্রভাবিত হচ্ছে। ফলে, বাজারে সোনার চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকতে হবে।
ক্রেতারা জানিয়েছেন, স্বর্ণের এই নতুন মূল্য বেশিরভাগ গয়না ক্রেতার জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। তবে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, স্বর্ণ সবসময় একটি নিরাপদ এবং স্থির মূল্যসম্পন্ন সম্পদ হিসেবে থাকে। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীরা লম্বা মেয়াদের জন্য স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব থেকে তাদের সুরক্ষা দেবে।
দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতি চলমান থাকার ফলে অনেক স্বর্ণ ব্যবসায়ীও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। তাদের মতে, স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতার সংখ্যা সামান্য হ্রাস পেলেও মোট বিক্রয় আয়ের পরিমাণ বেড়েছে। এতে দেশের স্বর্ণবাজারে বিনিয়োগকারীর আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও কিছুটা সুরক্ষিত হচ্ছে।
বাজুসের বিশ্লেষকরা মনে করেন, আগামী সপ্তাহগুলোতেও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে। তাই স্বর্ণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাজারের খবরে আপডেট থাকা জরুরি।
সংক্ষেপে বলা যায়, আজকের দিনটি বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে নতুন রেকর্ড স্থাপনের মতো। ২২ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা, যা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকায় স্বর্ণের সঙ্গে তুলনা করে বিনিয়োগের স্বাভাবিক চাহিদা বজায় থাকবে। আজকের এই দাম নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও বাজারের গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করবে।