প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আজ বুধবার বিকাল ৫টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টায় সাক্ষাৎ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগ।
বুধবার সকালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন আনা হলেও বৈঠক আজই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিনিধি দল পূর্বনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে সন্ধ্যা ৬টা নির্ধারণ করা হয়েছে।”
এর আগে মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছিল, চলমান রাজনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে বুধবার জামায়াতে ইসলামী নেতাদের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংলাপের লক্ষ্য হচ্ছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগের দিন মঙ্গলবার বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রশাসনিক রদবদল এবং ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ড. ইউনূস বিএনপি নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, প্রশাসনের যাবতীয় রদবদল তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে হবে এবং জেলা প্রশাসকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে কেবল যোগ্য ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, ড. ইউনূস বৈঠকে বলেছেন, “আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষ থাকা। নির্বাচন একটি মহা আয়োজন, যেখানে জনগণের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনে যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতা ও সততার ভিত্তিতেই আমরা বাছাই করব। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে যা কিছু প্রয়োজন, আমরা তা করব।”রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন, যার এর মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা জোরদার করতে চাইছেন তিনি।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংলাপের এ প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় আজকের বৈঠক দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে যমুনার বৈঠক কক্ষে—যেখানে প্রধান উপদেষ্টা ও জামায়াতের নেতারা একত্রে বসবেন ভবিষ্যতের রাজনীতি ও নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রাক্কালে।










