প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জামায়াতে ইসলামী সচিবালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এনসিপির নেতারা বলেন, মি. পরওয়ার ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ বক্তব্য দিয়েছেন এবং সেই বক্তব্যকে তারা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসান মাহবুব জোবায়ের বলেন, গোলাম পরওয়ার ‘বাই দা বাই’ কিছু মন্তব্য করেছেন, তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি। তবে রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্যের প্রভাব অনুভূত হচ্ছে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীকে ‘অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি’ হিসেবে দেখা গেছে এবং সেই সময়ে বিভিন্ন সমন্বয়ক দলের মধ্যে হৃদ্য সম্পর্ক বজায় ছিল। সমন্বয়ক শিবিরের কয়েকজন নেতাও পরবর্তীতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। এছাড়া, সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সময়ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বলা হতো যে কিছু নেতাই জামায়াত বা সংশ্লিষ্ট শিবিরের লোক।
এনসিপি দল হিসেবে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে আত্মপ্রকাশের পরও দুই দলের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল। বিশেষ করে এনসিপি নেতারা জামায়াতকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য এড়িয়ে চলেছেন। তবে, রাজনৈতিক মহলে নাহিদ ইসলামের এমন বক্তব্য আলোচিত হয়েছিল যে, এনসিপি আত্মপ্রকাশের আগে কিছু নেতাই ‘অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে জামায়াতের কাফফারা হয়ে গেছে’—যা তখন রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনের পিআর (প্রতিনিধি নির্ধারণ) ইস্যুতে জামায়াত যেমন সোচ্চার, তেমনি সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের জন্য পিআর পদ্ধতিতে ভোট দাবি করেছে এনসিপিও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এনসিপি দল যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রতিক্রিয়া দুই দলের মধ্যে ইতিমধ্যে দৃঢ় সুসম্পর্ককে কিছুটা পরীক্ষা করার মতো কাজ করবে। আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং পিআর বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনার প্রভাব কতটা পড়বে, তা রাজনৈতিক মহলে এখনই মনোযোগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।