ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নতুন সমীকরণে ইসলামি দলগুলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৭ বার
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নতুন সমীকরণে ইসলামি দলগুলো

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন নানা মেরুকরণ ও জোট সমীকরণের জটিল এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা, অবস্থান ও ঐক্যের সম্ভাবনা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে যেমন কৌতূহল বাড়ছে, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও চলছে জোর আলোচনা। নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাবনা নিয়ে যখন রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত, তখন ইসলামি দলগুলোও নিজেদের অবস্থান নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। এই দুই দলকে কেন্দ্র করেই অধিকাংশ ইসলামি দলের রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য জোটের কৌশল ঘুরপাক খাচ্ছে। ইসলামপন্থি শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠলে তা দেশের নির্বাচনি রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে নির্বাচনি ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন ইসলামি দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি কিছু দেশপ্রেমিক ও নীতিনিষ্ঠ দলকেও আমরা আলোচনার আওতায় এনেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামি শক্তিকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা।”

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, তৃণমূলপর্যায়ে ইসলামপন্থিদের মধ্যে ঐক্য বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর ভাষায়, “মানুষ আর বিভক্ত ইসলামপন্থি রাজনীতি দেখতে চায় না। ইসলামি দলগুলোর মধ্যে বিভেদ অনেকটা কমে এসেছে। একবার যদি তারা একত্রিত হয়, তাহলে আমরা দেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারব।”

খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ বেশ কয়েকটি ইসলামি দলের নেতারাও জানিয়েছেন যে, তারা ঐক্যের প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, “তৃণমূল ও সাধারণ মানুষ ইসলামি ঐক্য চায়। এ বিষয়ে বড় কোনো বাধা নেই, বরং আসন ভাগাভাগির ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সবাই উৎসাহী।”

খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, “জনগণ পরিবর্তন চায়। ইসলামি দলগুলো যদি এক হয়, তাহলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব। আমরা আশা করি সময়মতো ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তবে ইসলামি ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী কিছু বাস্তবতার দিক তুলে ধরে বলেন, “মানুষ একক ইসলামি প্রার্থী দেখতে চায়, কিন্তু আমাদের প্রার্থীদের অনেকেই এখনো মাঠে শক্ত অবস্থানে নেই। তাই ঐক্য হলেও জয়ের হিসাব-নিকাশে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।”

জমিয়তের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, “ইসলামি ঐক্য ভালো জিনিস, তবে সেটা ইসলামের স্বার্থে হতে হবে। বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে জনগণের আস্থা অর্জনই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।”

নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার জানান, তাঁরা জামায়াতসহ আটটি দলের যুগপৎ কর্মসূচিতে আছেন। তবে নির্বাচনি জোট নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পরই দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে ইসলামি দলগুলোর ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে সক্রিয় থাকা সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, “তৃণমূলের সবাই ঐক্য চায়, কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এখনো রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত। তবে আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামপন্থিদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

মাঠপর্যায়ের ইসলামপন্থি রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ইসলামি দলগুলো এক ছাতার নিচে এলে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন এক মেরুকরণের জন্ম দেবে। ঐক্যবদ্ধ ইসলামি ফ্রন্ট হলে তা শুধু নির্বাচনি সমীকরণই নয়, ভবিষ্যতের সরকার গঠনের সমীকরণেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

তবে এই ঐক্য প্রক্রিয়া কতটা সফল হবে, কিংবা কে কার সঙ্গে সমঝোতায় যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। সবাই অপেক্ষা করছে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পরবর্তী সময়ের জন্য, যখন ইসলামি রাজনীতির চূড়ান্ত রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত