আগামী নির্বাচন কে ঘিরে তরুণ ও রাজনীতি – তারেক রহমান কি ভাবছেন !!

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭২ বার
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সেমিনার

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের চিন্তা করছে। এবার দলটি তরুণ প্রজন্মকে প্রার্থী হিসেবে বেশি গুরুত্ব দিতে চায়। এ উদ্দেশ্যে ঢাকার কেন্দ্র থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের কাছে একটি বিশদ রাজনৈতিক প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে, যেখানে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিবর্তিত। ৪৫ বছরের পুরোনো দল হিসেবে বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়ে আসছেন। কিন্তু তাদের বেশিরভাগের বয়স এখন ৭০ কিংবা তারও বেশি। কেউ কেউ আশির কোঠা পেরিয়ে গেছেন। যদিও তারা নিজ নিজ এলাকায় সম্মানিত ব্যক্তি, কিন্তু পরিবর্তিত বাস্তবতায় তরুণ ভোটারদের কাছে তারা ততটা আকর্ষণীয় নন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে ছিল, তারা এখন ৩৫ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এবং এদের একটি বড় অংশ আগামী নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন। এই প্রজন্মের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর জীবনধারা এবং সামাজিক মূল্যবোধ অতীতের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশে বর্তমানে মোট ভোটারের প্রায় ৬০ শতাংশই তরুণ, যা নির্বাচনের ফলাফলে নির্ধারক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিএনপি পরিচালিত এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করা জরিপে দেখা গেছে, অন্তত ২৫ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন—তারা কোন দলের প্রার্থীকে ভোট দেবেন তা স্থির করেননি। এই সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের বড় অংশই তরুণ। সুতরাং, তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে হলে বিএনপির তরুণ প্রার্থীদের এগিয়ে আনার বিকল্প নেই বলে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান তরুণদের রাজনৈতিক জাগরণের একটি মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অধ্যায় ছিল। সেই আন্দোলনে তরুণরাই নেতৃত্ব দিয়েছিল, রাজপথে ছিল তাদের সরব উপস্থিতি। আবার সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তরুণরা তাদের প্রতিনিধি বেছে নিয়েছে, যেখানে দেখা গেছে বিএনপি সমর্থিত ছাত্রদল তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। এর অর্থ, তরুণদের মধ্যে বিএনপির প্রভাব হ্রাস পেয়েছে এবং সেটি পুনরুদ্ধার করতে হলে তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলা জরুরি।

ঢাকা থেকে পাঠানো বার্তায় তারেক রহমানকে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, দলের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে এবার নতুন মুখ, বিশেষ করে তরুণ ও ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে শুধু ভোটারদের আস্থা অর্জনই নয়, দলের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎও শক্তিশালী হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা দিয়ে হলেও তরুণ প্রার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কারণ, জনগণ এখন পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তরুণ নেতৃত্বকে দেখতে চায়।”

অন্যদিকে, তরুণ নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে বিএনপি তাদের নির্বাচনি জোটে নতুন সহযোগী দল যুক্ত করার পরিকল্পনাও করছে। জানা গেছে, এরই অংশ হিসেবে তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল এনসিপি (ন্যাশনাল চেঞ্জ পার্টি)-কে জোটভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। বিএনপির কৌশল নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা জানিয়েছেন, “এনসিপি তরুণদের সংগঠিত করে তুলেছে এবং তাদের সঙ্গে জোট করলে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা যাবে।”

সূত্র অনুযায়ী, বিএনপি এনসিপিকে ২০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে। দলের এক অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৮টি আসনে এনসিপির জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—শর্ত হলো বিএনপি যদি বিদ্রোহী প্রার্থী না দেয় এবং সর্বাত্মক সমর্থন দেয়। বাকি ১২টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা কম হলেও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই এই ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

দলীয় এক নেতা বলেন, “তারেক রহমান তরুণদের প্রতি বরাবরই ইতিবাচক। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই থাকতে হবে। তাই এবার প্রার্থী নির্বাচনে বয়স ও যোগ্যতার ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি যদি সত্যিই তরুণদের মাঠে নামাতে পারে, তাহলে সেটি শুধু ভোট কৌশল নয়—বরং দলের ভবিষ্যতের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হবে। কারণ, দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচনী রাজনীতিতে বিএনপি যে পুনরুত্থানের স্বপ্ন দেখছে, তার মূল ভিত্তি হতে পারে তরুণ প্রজন্ম।

তবে অনেকেই মনে করেন, তরুণ প্রার্থীদের এগিয়ে আনা যতটা জরুরি, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ তাদের উপযুক্তভাবে সংগঠিত করা এবং তাদের জন্য নির্বাচনি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা। তরুণদের কণ্ঠস্বরকে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত না করলে এই উদ্যোগ স্থায়ী প্রভাব ফেলবে না।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “তরুণ প্রার্থীদের সামনে আনা এক সাহসী পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে বিএনপি কতটা আন্তরিকভাবে তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতা বিকশিত করে।”

সব মিলিয়ে, বিএনপির আসন্ন নির্বাচনী কৌশল এখন একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—পুরনো রাজনীতির ধারা বদলে নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরই হতে পারে তাদের পুনর্জাগরণের পথ। এখন প্রশ্ন একটাই—তারেক রহমান এই রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী সাহসী সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, সেটাই নির্ধারণ করবে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত