প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্কের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৩ নভেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত এ মামলার কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে বলেন, “গণহত্যা চালিয়ে শেখ হাসিনার পলায়নের ঘটনাপ্রবাহ থেকেই তার অপরাধ প্রমাণিত হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জুলাই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, পতিত সরকারের সহযোগীরা এখনো বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার নানা চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি না হলে জুলাই শহীদদের আত্মার প্রতি তা হবে অবিচার।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “এই মামলার প্রমাণসমূহ ক্রিস্টাল ক্লিয়ার। বিদেশি সংস্থার দ্বারা পরীক্ষা করা ফোনকল রেকর্ডসহ অন্যান্য উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ বিশ্বের যেকোনো আদালতে অপরাধ প্রমাণে যথেষ্ট। আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ দণ্ড দাবি করছি।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তিতর্কে বলেন, শেখ হাসিনা ইচ্ছাকৃতভাবে দেশ ত্যাগ করেননি। “তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল,” দাবি করেন তিনি।
এর আগে বুধবার আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন করে। পরে প্রসিকিউশন যুক্তিখণ্ডন করে। বৃহস্পতিবার ছিল মামলার শেষ দিনের শুনানি, যেখানে প্রসিকিউশন তাদের চূড়ান্ত বক্তব্য পেশ করে।
এই মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন—এর মধ্যে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবার, আহত ব্যক্তি, চিকিৎসক ও বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী। সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে এসেছে জুলাই গণহত্যা, নৃশংসতা, গুম-খুন, নির্যাতনসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বর্ণনা।
দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানির পর বিচারকাজ শেষ হওয়ায় এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে আগামী ১৩ নভেম্বরের দিকে, যেদিন ঘোষিত হবে এই যুগান্তকারী মামলার রায়।