৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৯ বার
৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়ক প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয়দের বাধায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজ শেষ করার তাড়াহুড়ায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছে এবং ওপরের স্তরে বালি ছিটিয়ে অনিয়ম ঢাকার চেষ্টা করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে এমন নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি বিপুল অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে।

হাসিনাসহ তিনজনের বিচারকাজ শেষ: রায়ের দিন ১৩ নভেম্বর

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আইআরডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় ফরিদগঞ্জের বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের সেকদি-চান্দ্রা সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮২৫ মিটার সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমজেএআইজেবি। শুরুতে ধীরগতিতে মাটি ভরাট ও পাইলিংয়ের কাজ করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ দ্রুত গতিতে এইচবিবি (হট ব্রিক ব্লক) কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ দেখা দেয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সকালে এলাকাবাসী সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, সড়কের নিচের অংশে নিম্নমানের ইট বিছানো হচ্ছে এবং তড়িঘড়ি করে ওপরে ভালো ইট বসানো হচ্ছে। কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের কেউ ইট বিছাচ্ছেন, কেউ বালি ছিটিয়ে দিচ্ছেন যাতে নীচের নিম্নমানের ইটগুলো চোখে না পড়ে। প্রকৌশল বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি স্বীকার করেন যে কিছু নিম্নমানের ইট ব্যবহার হয়েছে। পরে শ্রমিকদের সেই ইট উঠিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর পক্ষে মিজানুর রহমান, আব্দুল ওয়াদুদ ও ইব্রাহীম মিয়া বলেন, “৬ কোটি টাকার সড়কে পচা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো এক বছরও টিকবে না। আমরা চাই এই কাজ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সরকার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে, কিন্তু কিছু অসাধু ঠিকাদার ও প্রকৌশলী মিলে সেই টাকা লুট করছে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাজের তদারকিতে থাকা হাবিবুর রহমান ভুট্টু ও শাকিল আহমেদ বলেন, “কিছু ইট নিম্নমানের চলে এসেছে। আমরা তা সরিয়ে নিচ্ছি। সড়কের স্থায়িত্ব বজায় রাখতেই এসব ইট পরিবর্তনের কাজ চলছে।”

ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবরার আহাম্মদ স্বীকার করেছেন যে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি তারা জেনেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছি নিম্নমানের ইট সরিয়ে নিতে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, একদিকে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের কারণে সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারি অর্থ যেমন অপচয় হচ্ছে, তেমনি জনগণও ভোগান্তিতে পড়ছে।

ফরিদগঞ্জের এই সড়কটির মতো সারা দেশে এলজিইডির আওতাধীন অনেক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রকল্পের কাজের গুণগত মান রক্ষায় নিয়মিত মনিটরিং ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় উন্নয়নের নামে দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের এই প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়াবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত