প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫। ঢাকা ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি কর্মী মাহফুজ আলম শ্রাবণ হত্যার মামলায় পুলিশ অভিনেতা ইরেশ যাকের এবং ফোরথর্ট পিআর (কনসার্ন অব এশিয়াটিক) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকরাম মঈন চৌধুরীকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে। গত ৯ অক্টোবর এই প্রতিবেদনের দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমন।
ঢাকার সিএমএম আদালতের জিআরও শাখা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরেশ যাকের এবং ইকরাম মঈন চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা আড়াইটার সময় ঘটনার স্থান মিরপুরে উপস্থিত ছিলেন বলে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করার জন্য কোনো স্থিরচিত্র বা ভিডিও ফুটেজও পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় তারা উপস্থিত থেকে মামলার ঘটনা সংঘটিত করেছিলেন বলে কোনো তথ্যবহুল দালিলিক সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই কারণে তাদের বিরুদ্ধে আনা অপরাধের দায় থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করার সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদন স্পষ্ট করে বলে, ভবিষ্যতে যদি প্রামাণ্য দালিলিক বা বাস্তবভিত্তিক কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত ২৭ মার্চ নিহত মাহফুজ আলম শ্রাবণের ভাই মোস্তফিজুর রহমান বাপ্পী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে আদালত মিরপুর মডেল থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০৭ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন ৫ আগস্ট দুপুর বেলা আড়াইটার সময় মিরপুর এলাকায় ছাত্র-জনতা মিছিল চলার সময় আসামিদের নির্দেশে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট, রাইফেল, শটগান ও পিস্তল ব্যবহার করেন এবং ককটেল ও হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন শ্রাবণ। তাকে দ্রুত মিরপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন আসামির উপস্থিতি ও দায় নির্ধারণের বিষয়ে এখনও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান। পুলিশ প্রতিবেদনে এই অব্যাহতির সুপারিশ মামলার গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের হাতে।