প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫। বরিশাল ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ১১ বছর পর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন ৩০ সদস্যের এই কমিটি অনুমোদন দেন। তবে কলেজে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮ জনকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্তে প্রকাশ্যে এবং গোপনে সব ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কমিটি ঘোষণার আগে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ব্যানারে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, এবং এর পরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নতুন কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান প্রিন্স ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে তিনি সমীহভাজন ছিলেন। অভিযোগ আছে, জুনিয়র শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার ঘটনা নিয়েও প্রিন্সের নামে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফাহিদও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন।
নবগঠিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে আছেন। সহসভাপতি জুবায়ের আল মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাগীব মাহফুজ, সহ সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হক শান্তসহ কমিটির অন্তত ১৮ জনের ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জুবায়ের আল মাহমুদ বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার করেছেন।
নতুন কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান প্রিন্স সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং বারবার ফোন রিসিভ না করার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফাহিদের সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. সাকিবুল হক রাসেল সাংবাদিকদের জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনো কমিটি দিতে পারলেও মহানগর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করা হলেও এটি যথাযথ নয়। তিনি বলেন, ত্যাগী নেতারা দলের সম্পদ এবং কোনো ব্যক্তির পছন্দের কারণে তাদের অবমূল্যায়ন করা ঠিক নয়।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মো. রেজাউল করিম রনি বলেন, নতুন কমিটি কেন্দ্র থেকে সরাসরি ঘোষণা করা হয়েছে, এবং তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের সংযুক্তি হলে তার দায় মহানগর কমিটির নয়। তিনি বলেন, বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের অধীনে আগে শেবাচিমের কমিটি থাকলেও এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই সরাসরি পুনর্গঠন করেছে।
ছাত্রদলের সূত্র জানায়, কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে টিম প্রধান ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি দীপু পটোয়ারী। তার নেতৃত্বেই পদপ্রত্যাশীদের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তবে কমিটিতে ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গত মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রদলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে নতুন কমিটির তালিকা শেয়ার করা হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নবগঠিত কমিটিতে ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কলেজে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।