প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫। ঢাকা ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সাড়া ফেলেছে বিএনপির ৩৬ দফা প্রস্তাব। নির্বাচনের সুষ্ঠুতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার দাবিতে বিএনপির এই প্রস্তাবগুলো নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।
ড. মঈন খান বলেন, “আগামী নির্বাচনটি যেন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সেটাই আমাদের কামনা। আমরা কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, জাতীয় স্বার্থে আলোচনা করতে এসেছি। এমন এক পরিবর্তন চাই, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে এবং গণতন্ত্র তার মর্যাদা ফিরে পাবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই কমিশন অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিক। বিগত তিনটি নির্বাচন—২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে যে প্রহসনের চিত্র দেশবাসী দেখেছে, তা আর যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। সেসব বিতর্কিত নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এবার নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে দূরে রাখতে হবে।”
বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ড. মঈন খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া। তারা প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে করণীয় প্রস্তাবসমূহ” শীর্ষক একটি লিখিত কার্যপত্র কমিশনের হাতে তুলে দেন।
যদিও বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. মঈন খান দাবি করেন, তারা কোনো “লিখিত প্রস্তাব” দেননি; তবে তার হাতে থাকা একটি নথিতে স্পষ্টভাবে “প্রস্তাবিত কার্যপত্র” লেখা দেখা যায়। ইসি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে বিএনপি ৩৬টি প্রস্তাব দিয়েছে—যার মধ্যে অন্যতম হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দলীয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অপসারণ এবং প্রভাবমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা।
বিএনপির প্রস্তাবনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগে দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন করতে হবে। দলটি ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইবনে সিনা ট্রাস্টসহ “দলীয় ঘনিষ্ঠ” প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের ভোট পরিচালনায় সম্পৃক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিএনপির দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সম্প্রতি বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পেয়েছেন, যাদের দলীয় আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দলটি বলেছে, “নির্বাচনের নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে দলীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
সি সূত্রে জানা গেছে, কমিশন বিএনপির উত্থাপিত প্রতিটি প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন বৈঠকে বলেন, “ইসি সব রাজনৈতিক দলের মতামত গ্রহণে উন্মুক্ত। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, আসন্ন নির্বাচন হবে সকলের অংশগ্রহণে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে। কেউ যেন প্রভাব খাটাতে না পারে, সে বিষয়ে ইসি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।”
বিএনপির প্রস্তাবের মূল প্রেক্ষাপট হচ্ছে, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক। দলটি অভিযোগ করে আসছে যে এসব নির্বাচনে প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা দলীয় প্রভাবের অধীনে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও বারবার এসব নির্বাচনে স্বচ্ছতার ঘাটতি উল্লেখ করেছেন।