প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫। ঢাকা ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্যাশলেস ক্যাম্পাস। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা পুরো ক্যাম্পাসে নগদ অর্থ ছাড়াই সব ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে নগদ টাকার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং স্মার্ট আর্থিক সেবার প্রসার আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্যোগের আওতায় ক্যাম্পাসের সর্বত্র বাংলা কিউআর প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। ফলে ক্যাফেটেরিয়া, বইয়ের দোকান, প্রশাসনিক অফিস, ট্রেন স্টেশনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্থানে ডিজিটাল পেমেন্ট করা যাবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা দর্শনার্থীরা এখন ইসলামী ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক লেনদেন করতে পারবেন। ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা ক্যাম্পাসে আর্থিক লেনদেনকে যেমন সহজ ও নিরাপদ করবে, তেমনি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও গতি আনবে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষভাবে তৈরি একটি এক্সক্লুসিভ ইসলামী ব্যাংক-মাস্টারকার্ড ডেবিট কার্ড। কার্ডটি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন আরও দ্রুত ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। ক্যাম্পাসে টিউশন ফি পরিশোধ থেকে শুরু করে লাইব্রেরি চার্জ, ক্যান্টিন বিল কিংবা ব্যক্তিগত কেনাকাটা—সব কিছুই এই কার্ডের মাধ্যমে করা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক রাফেজা আক্তার কান্তা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মকবুল হোসেন, ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের শুভেচ্ছা বক্তব্যসংবলিত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে মাস্টারকার্ডের রিটেইল অ্যান্ড কমার্স বিভাগের প্রধান জুবায়ের হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, ইসলামী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মকবুল হোসেন বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট শুধুমাত্র প্রযুক্তি নয়, এটি একটি মানসিক পরিবর্তনের প্রতীক। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সচেতনতা সৃষ্টি করতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইন বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এক নতুন মাইলফলক। শিক্ষার্থীরা এখন থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সহজ উপায়ে নগদবিহীন লেনদেন করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি দেশে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে নগদবিহীন লেনদেনে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রকল্পকে তাই মডেল প্রজেক্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের উদ্যোগ চালু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই স্মার্ট ব্যাংকিং ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক আর্থিক সেবা প্রদান করছে। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাশলেস ক্যাম্পাস প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারার অভ্যাস তৈরি হবে।
দেশের শিক্ষাঙ্গনে শুরু হওয়া এই ‘ক্যাশলেস ক্যাম্পাস’ উদ্যোগকে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। নগদবিহীন অর্থনীতি বাস্তবায়নের এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে আরও নিরাপদ, স্বনির্ভর ও প্রযুক্তি-বান্ধব আর্থিক জীবনের দিকে নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।










