পদ্মা সেতু রেলওয়ে প্রকল্পে লোহা চুরির হিড়িক, কোটি টাকার মালামাল পাচারের অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮১ বার
পদ্মা সেতু রেলওয়ে প্রকল্পে লোহা চুরির হিড়িক, কোটি টাকার মালামাল পাচারের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চায়না ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্টের নিরাপত্তা ইনচার্জ নাজমুল হুদা খান জানান, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ২৫-৩০ জন নেতা ও কর্মী এ চুরিতে জড়িত। তিনি বলেন, অজ্ঞাত ফোনে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ায় ভয়ে তিনি এই বিষয়ে অনেক সময় মুখ খুলতে পারেন না।

ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ওপর নির্মাণাধীন রেললাইন প্রকল্পের লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি চুরি করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার লোহা চোরাই পথে বিক্রি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চুরিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং চীনা প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মীরা জড়িত।

কেরানীগঞ্জে অবস্থিত প্রকল্পের সাইট অফিস থেকে এই চুরি সংঘটিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। পদ্মা সেতুর ওপর রেললাইন স্থাপন প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরকারি-সভার (G2G) চুক্তির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯,২৪৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১৮,২১০ কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি অর্থায়ন করছে চীনের এক্সিম ব্যাংক।

প্রবাসীদের জন্য এনবিআরের নতুন সুবিধা

প্রকল্পটি ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, গত বছরের ৫ আগস্টের পর কাজ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে লোহা ও সরঞ্জামাদি চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, রাতে লোহা কেটে ট্রাকে লোড করা হয় এবং তা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ ট্রাক লোহা বিক্রি করা হচ্ছে, যার প্রতিটিতে ১০ থেকে ১৫ টন লোহা থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লোহা বিক্রির এই প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে কয়েকজন নামজাদা নেতা এবং শ্রমিক অংশগ্রহণ করছে। লোহা বিক্রির টাকা থেকে রাজনৈতিক নেতাদেরও ভাগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও চায়না প্রকল্পের দোভাষী ও নিরাপত্তা ইনচার্জকে ম্যানেজ করে লোহা প্রকল্প এলাকা থেকে বের করা হচ্ছে।

ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে স্থানীয়দের মতে, তার সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এমন চুরি সম্ভব নয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ আখতার হোসেন জানিয়েছেন, তিন মাস আগে তিনি থানায় যোগ দিয়েছেন এবং লোহা চুরির বিষয়টি তার নজরে এসেছে। প্রতিদিন ১০-১২ ট্রাক পর্যন্ত লোহা বের হচ্ছে বলে তিনি তথ্য পেয়েছেন।

ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির ওসি সাইদুল ইসলামও চুরির সত্যতা স্বীকার করেছেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে দুই ট্রাক চুরি হওয়া লোহাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে আছেন।

চায়না ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্টের নিরাপত্তা ইনচার্জ নাজমুল হুদা খান জানান, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ২৫-৩০ জন নেতা ও কর্মী এ চুরিতে জড়িত। তিনি বলেন, অজ্ঞাত ফোনে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ায় ভয়ে তিনি এই বিষয়ে অনেক সময় মুখ খুলতে পারেন না।

এভাবে রাজনীতিবিরোধী ও নিরাপত্তা জড়িতদের সহায়তায় পদ্মা সেতু রেলওয়ে প্রকল্পের লোহা ও সরঞ্জামাদি চুরি হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এভাবে চলতে থাকলে প্রকল্পের বাস্তবায়নে মারাত্মক প্রভাব পড়বে এবং কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ অপচয় হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত