দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশজুড়ে এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিহীন এবং তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মৃদু তাপপ্রবাহের প্রভাব দেখা দিয়েছে। গরমের কারণে সারাদেশে দিনরাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চ হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ স্থানে বৃষ্টি হয়নি, যদিও রাঙ্গামাটি ও শ্রীমঙ্গলসহ কিছু সীমিত এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। ফেনী অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর প্রভাব মূলত ভারতের ওডিশা এবং অন্ধপ্রদেশ উপকূলে প্রবল হওয়ার আশঙ্কা বেশি। বাংলাদেশের জন্য বিশেষ করে উপকূল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় সীমিত প্রভাব পড়তে পারে। নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন, বিশেষত ২৯ অক্টোবরের দিকে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য এনবিআরের নতুন সুবিধা

আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, “লঘুচাপটি যদি নিম্নচাপে পরিণত হয়, তবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। লঘুচাপের গতিপ্রকৃতি অনুসারে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে, তবে বাংলাদেশের উপকূলে প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হবে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, তাপপ্রবাহের মাত্রা নির্ধারণ করা হয় তাপমাত্রা অনুযায়ী। ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়, ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে দেশের সর্বাধিক তাপমাত্রা ও বৃষ্টিহীন অবস্থার কারণে গরমের তীব্রতা বেড়েছে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপ থেকে আসা নিম্নচাপ বাংলাদেশের জন্য আংশিক স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে এবং গ্রীষ্মের তীব্রতা কিছুটা শিথিল হবে।

এর আগে কয়েকদিন আগে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল, যা দ্রুত দুর্বল হয়ে যায় এবং বাংলাদেশের উপকূলে প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে নতুন লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়া এবং পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি ধ্বংসাত্মক প্রভাব খুব বেশি হবে না, তবে কিছু এলাকায় বৃষ্টি ও বাতাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বস্তি আসতে পারে।

সরকারি ত্রাণ ও প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিভাগগুলোও বিষয়টি মনিটর করছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার ওপর নজর রেখে স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য বন্যা বা ক্ষয়ক্ষতি থেকে জনগণকে রক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এই প্রাকৃতিক অবস্থার কারণে দেশের কৃষি, পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবনধারায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত