নির্বাচনে সেনা কর্মকর্তার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন হাসনাত

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
বাংলাদেশে দিল্লির আধিপত্য মানা হবে না: হাসনাতের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক / একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা চলছে, আর এর পেছনে এমন একজন সেনা কর্মকর্তা আছেন যিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছেন।”

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে দলের ঢাকা জেলা ও দুই মহানগর শাখার সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসনাত এই অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষায়, “নির্বাচনের নামে একটি প্রহসন তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। সেনানিবাস থেকে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করছে। দেশের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এখন দুটি বড় দলের দখলে। সচিবালয়ে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ভাগাভাগি করছে। এতে সহযোগিতা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। জনগণ এই প্রহসন মেনে নেবে না।”

হাসনাত আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রশাসনে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। “এখন সচিবালয়ে বসে ডিসি ভাগাভাগি চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে,” বলেন তিনি। “যেমন কেউ বলছে চট্টগ্রামের ডিসি আমি নেব, অন্য কেউ বলছে উত্তরবঙ্গের দুইটা ডিসি আমার লাগবে। এমনকি ডিসি বদলি নিয়েও দর-কষাকষি চলছে। এটি এক ধরনের প্রশাসনিক বাণিজ্য, যা দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।”

দলের নাম উল্লেখ না করলেও তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং স্কুল-কলেজ কমিটিগুলো দখল করেছে। তারা ওই সব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও শিক্ষকদের পোলিং এজেন্ট বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি নির্বাচনের আগে থেকেই তাদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে সহিংসতার জন্ম দিতে পারে।”

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত বলেন, “এই কমিশন একটি মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠান। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে নতি স্বীকার করছে। উপদেষ্টাদের নিয়োগ, দায়িত্ব বণ্টন—সব কিছু এখন দুই দলের মধ্যে ভাগাভাগি হচ্ছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তারাই এখন প্রভাবিত হয়ে পড়েছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করছি, দর্শকের ভূমিকা পালন করবেন না,” বলেন হাসনাত। “আমরা আপনাকে এনেছি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য, কিন্তু আপনি যদি রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের মুখে পড়ে যান, তাহলে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে। প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে, নইলে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না।”

সেনানিবাসে অবস্থানরত একজন কর্মকর্তার দিকেও ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তিনি ক্যান্টনমেন্টে বসে বসে পরিকল্পনা করছেন, কাকে নির্বাচনে জেতাতে হবে, কাকে হারাতে হবে। আমরা বলতে চাই, সেনাবাহিনী জাতির গর্ব, জনগণের নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু যদি সেই সেনানিবাস থেকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা হয়, তাহলে এটি গোটা প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত করবে। আমরা চাই সেনাবাহিনী তাদের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখুক এবং গণতন্ত্রের পথে বাধা না হয়ে সহযোগিতা করুক।”

হাসনাতের বক্তব্যে তীব্র রাজনৈতিক সুর লক্ষ্য করা যায়। তিনি বলেন, “আমাদের ওপর ট্যাংক চালালেও আমরা রাজপথ ছাড়ব না। জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিতে কেউ পারবে না। বাংলাদেশকে আবার সামরিক প্রভাবের দিকে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র আমরা সফল হতে দেব না।”

সভায় দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস বলেন, “আমরা আগামী নির্বাচনে শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাই। আমরা হয় সরকারে থাকব, না হয় কার্যকর বিরোধী শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখব। প্রতিটি জেলায় সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করা যায়।”

দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা মুজিবকে জাতির পিতা হিসেবে মানি না। ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করতে হবে। আগামী সংসদে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ—দু’দলকেই আমরা দেখতে চাই না। ড. ইউনূসকে যে দায়িত্ব দিয়ে আনা হয়েছে, তা থেকে তিনি সরে গেলে জনগণ তাঁকে ক্ষমা করবে না।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি অতীতে জিয়াতন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছে, আর জামায়াতে ইসলামী চেষ্টা করেছে মওদুদীবাদ কায়েমের। আজ আবার সেই পুরনো কৌশল পুনরাবৃত্তির চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই, গণতন্ত্রের নামে যদি শেখ পরিবার, জিয়া পরিবার বা অন্য কোনো বংশবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে জনগণ রাজপথে নেমে আসবে। রাজনীতির মেরুদণ্ড হতে হবে জনগণ, কোনো পরিবার নয়।”

সভা শেষে হাসনাত বলেন, “আমরা চাই একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, তাহলে জনগণের আস্থা ফিরে আসবে। কিন্তু যদি রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে।”

তিনি শেষবারের মতো সতর্ক করে বলেন, “যারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, তারা ইতিহাসে জায়গা পাবে না। বাংলাদেশ একাত্তরে যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, আজও জনগণ সেই ঐতিহ্য ধরে রাখবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত