৭১-এর গণহত্যা: দল হিসেবে জামায়াতেরও বিচার হওয়া উচিত মাসুদ কামাল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৭ বার
নির্বাচন নিয়ে নতুন আইন প্রণয়ন, বিশ্লেষক মাসুদ কামালের মতামত

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী দলের ভূমিকারও বিচারের আওতায় আনা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, যে কাজটি এখন আওয়ামী লীগের জন্য হচ্ছে, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ যদি কোনো ভূমিকা রাখে তার বিচার হয়, তাহলে ’৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকার বিচার কেন হবে না? তার মতে, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য যে ট্রাইব্যুনাল বা আদালত গঠন করা হয়েছে, সেখানে এখন দলেরও বিচার করা সম্ভব। এই সংক্রান্ত আইনি ভিত্তি ইতিমধ্যেই সরকার আইসিটি আইনের মাধ্যমে তৈরি করেছে।

মাসুদ কামাল বলেন, “দল হিসেবে আগে বিচার করার কোনো নিয়ম বা আইন ছিল না। তবে বর্তমান সরকার এই আইনি ভিত্তি যোগ করেছে। তাই যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের পক্ষ থেকে মামলা করা সম্ভব। তা না হলে সরকারের দায়িত্ব এই মামলাগুলো বিচারের আওতায় আনা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যার জন্য যদি আওয়ামী লীগের বিচার করা হয়, তাহলে ’৭১ সালের গণহত্যার জন্য জামায়াতেরও বিচার হওয়া উচিত। মাসুদ কামাল আরও বলেন, “যদি প্রমাণিত হয় জামায়াত নির্দোষ, তারা বেঁচে যাবে; কিন্তু বিচার করা উচিত। বিচারের আওতায় আনা মানেই অপরাধী হওয়া নয়। কিন্তু এই সুযোগটি না দিলে ইতিহাসের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হয়।”

তিনি সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন, যেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমান জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। মাসুদ কামাল বলেন, “প্রশ্নটা ব্যক্তিগত নয়, দলের ব্যাপারে। জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের মুক্তির বিরোধিতা করেছিল কি? করেছে। পাকিস্তানি বাহিনী কি এ দেশে গণহত্যা চালায়নি? চালিয়েছে। জামায়াত কি সেই গণহত্যায় সহায়তা করেছে? করেছে। মা-বোনদের ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনায় সহায়তার মানসিকতা ছিল কি না? ছিল।” তিনি মনে করিয়ে দেন, এই সব বিষয় বিচারের আওতায় আনা একেবারেই যৌক্তিক এবং তা শুধুমাত্র ইতিহাসকে ন্যায্যতার সঙ্গে সমাধান করবে।

মাসুদ কামাল বলেন, “শুধু আওয়ামী লীগের জন্য বিচার হওয়া পর্যাপ্ত নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতেরও বিবেচনা হওয়া উচিত। যারা ’৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত ছিল, তাদের কার্যকর বিচার হওয়া প্রয়োজন। তবে এটি বিচারকে রাজনৈতিক বা পক্ষপাতদুষ্ট রূপে প্রভাবিত করবে না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচারও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হয়নি এবং বিচারের নামে কিছু ক্ষেত্রে অবিচার ঘটেছে। কিন্তু জামায়াতের ’৭১-এর ভূমিকাকে আড়াল করা হলে ইতিহাসের সঙ্গে ন্যায্যতা থাকবে না।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা সমালোচিত হলেও, তা নিয়ে আলোচনা ও বিচারের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। জামায়াত কি পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, স্থানীয় জনগণকে সহায়তা বা বাধা প্রদান করেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের আলোকে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। মাসুদ কামাল মনে করিয়ে দেন, “যদি দল হিসেবে বিচার করা হয়, এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল নয়, বরং মানবতার পক্ষেও একটি ন্যায্য পদক্ষেপ।”

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হিসেবে মাসুদ কামাল আরও বলেন, ইতিহাসের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব সরকারের। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিচারের মাধ্যমে শুধু দোষীকে শাস্তি দেয়া নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষা দেওয়ার সুযোগও সৃষ্টি হয়। যার ফলে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়। তিনি বলেন, “যদি আমরা ’৭১ সালের ঘটনাগুলো সঠিকভাবে বিচার করি, তাহলে ইতিহাস নিজেই আমাদের শিক্ষাদান করবে, ভুল আর পুনরাবৃত্তি এড়াতে সাহায্য করবে।”

মাসুদ কামালের বক্তব্যের আলোকে বোঝা যায়, ইতিহাস ও ন্যায্যতার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করিয়ে দেন, যে দল ১৯৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত ছিল, তার প্রতি জনগণের ন্যায্য দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। তিনি বলেন, “বিচারের আওতায় আনা মানেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়। এটি ইতিহাসকে সত্যনিষ্ঠ ও সংরক্ষিত রাখার একটি প্রয়াস।”

তিনি বলেন, জাতির collective স্মৃতিতে ’৭১ সালের গণহত্যার ঘটনা অমোঘ। সেই সময়ে যে রাজনৈতিক দলগুলি পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে, তাদের কর্মকাণ্ডের বিচার হওয়া উচিত। মাসুদ কামাল মনে করিয়ে দেন, এটি শুধু প্রতিশোধ নয়, বরং এক ধরনের ন্যায্যতা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ইতিহাসের সত্যের সঙ্গে পরিচিত থাকে।

মাসুদ কামাল শেষ করেন, “শুধু আওয়ামী লীগের বিচার করা যথেষ্ট নয়। জামায়াতেরও সেই সুযোগ থাকা উচিত। বিচারের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ পাবে, ইতিহাস সমৃদ্ধ হবে এবং সমাজে ন্যায়ের সংস্কৃতি দৃঢ় হবে।”

বক্তৃতার শেষে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন, যা রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে মানবিক ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি আমরা ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধ থাকি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভুলের শিক্ষা থেকে রক্ষা করা সম্ভব। তাই দল হিসেবে জামায়াতের বিচারও হওয়া উচিত।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত