প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থেকে নিখোঁজ হওয়া ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অবশেষে সিলেট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কিশোরীর আপন খালা ও খালুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন জানা গেছে অপহরণ পরিকল্পনায় ভিকটিমের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জড়িত ছিলেন।
শনিবার শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশের একটি বিশেষ টিম সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ধরাধরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোরীটিকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম এবং তার স্বামী মোবারক মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিল্পী সরকার স্বীকার করেছেন যে, তিনি ভিকটিমের আপন খালা এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও সম্প্রতি তাদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার সপ্তমীর দিনে শ্রীমঙ্গল শহরের আর.কে. মিশন রোডের দুর্গা মন্দিরে অঞ্জলি দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় কিশোরীটি। সে দিন বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মন্দিরে গিয়েছিল, কিন্তু ফেরার সময় আর তার দেখা মেলেনি। পরদিন পরিবার সর্বত্র খোঁজাখুঁজি করেও ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত কিশোরীর বাবা শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রেকর্ড হয়, যেখানে কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠালকান্দি গ্রামের বদরুল আলম (২৫)সহ তিনজনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ ঘটনার পর থেকেই তদন্ত শুরু করে। প্রথমে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেই সূত্রে দুই সন্দেহভাজন বদরুল আলম ও শহিদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাদের কাছ থেকে ভিকটিম সম্পর্কে তেমন তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত আরও জোরদার করা হয়। এরপর তদন্তকারীরা ভিকটিমের মাসি প্রিয়াংকা সরকারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তার কল রেকর্ড বিশ্লেষণ শুরু করেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রিয়াংকা সরকারের সঙ্গে শিল্পী সরকারের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং নিখোঁজের দিনও তারা একাধিকবার ফোনে কথা বলেন।
এই সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমার ধরাধরপুর এলাকায় শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম এবং তার স্বামী মোবারক মিয়া ভিকটিমকে তাদের ভাড়া বাসায় আটকে রেখেছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের টিম শুক্রবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে কিশোরীটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশের ধারণা, শিল্পী সরকার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দুর্গাপূজার দিন মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। অঞ্জলি শেষে ফেরার পথে কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে তিনি সিলেটে নিয়ে যান এবং পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখেন। এমনকি ভিকটিমের মা ঘটনার পর শিল্পী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ভিকটিমকে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে অপহরণ ও মানবপাচারের সম্ভাব্য উদ্দেশ্যগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পরিবারের আস্থার জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন জঘন্য কাজের শাস্তি অবশ্যই হবে।”
এদিকে কিশোরীর পরিবার মেয়েকে উদ্ধার করতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তবে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাদের জীবনের এই দুঃসহ সময়ের মানসিক আঘাত কাটাতে সময় লাগবে। এলাকাবাসীও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।