সাভারে ড্যাফোডিল ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ: উত্তেজনা ও আহত

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৫ বার
সাভারে ড্যাফোডিল ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ: উত্তেজনা ও আহত

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকায় রোববার (২৬ অক্টোবর) রাতে তুচ্ছ এক ঘটনায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কারণে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে তখন সিটি ইউনিভার্সিটির এক ছাত্র ভবনের ছাদ থেকে থুথু নিক্ষেপ করেন, যা নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রের গায়ে পড়ে। এ ঘটনায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির কয়েকজন ছাত্র সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম এবং পুলিশ তাদের শান্ত থাকার জন্য তৎপর হয়।

প্রক্টরিয়াল টিম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে অবস্থান নেন, যাতে সংর্ঘষ কমানো যায়। এদিকে, সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। সংঘর্ষে প্রাথমিকভাবে গাড়ি, মোটরসাইকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। বেশ কিছু শিক্ষার্থী সামান্য ও গুরুতর আহত হয়। তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই সহ্যযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে শান্তি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রশাসন বলেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে যৌথ কমিটি এবং পর্যবেক্ষণ টিমের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। এছাড়া দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সতর্ক করেছেন।

ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব রাতের অন্ধকারে একটি বৃহৎ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইট, লাঠি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে ধোঁয়া আর চিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। অনেকেই জানায়, তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী হঠাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রক্টরিয়াল টিম এবং পুলিশ শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে অবস্থান নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ ধরনের সংঘর্ষের মূল কারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা। থুথু নিক্ষেপের মতো তুচ্ছ ঘটনা সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সুসংগঠিত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবও এই ধরনের সংঘর্ষকে ত্বরান্বিত করে।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় টহল চালাচ্ছে এবং দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে যাতে আরও কোনও ঘটনা না ঘটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য সচেতনতা কর্মসূচি এবং সংলাপ আয়োজনের মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখা হবে।

সিটি ইউনিভার্সিটির একটি কর্মকর্তা জানান, “এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের শিক্ষাজীবন কাটাক। এই সংঘর্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে যে, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এবং তুচ্ছ ঘটনায় উত্তেজনা প্রশমিত না করা কতটা বিপজ্জনক।”

জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেক আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচিত ছিল সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শান্তি বজায় থাকবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ধরনের সংঘর্ষ প্রতিহত করতে স্থানীয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা কমানো সম্ভব। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য এবং উত্তেজনাপূর্ণ ভিডিও ছড়ানো নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না হয়।

অতএব, সাভারের এই সংঘর্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। যদিও এই সংঘর্ষের পেছনে একটি তুচ্ছ ঘটনা ছিল, তবু এর প্রভাব বিশাল এবং তা শিক্ষার্থীদের, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রশাসন সকলের জন্য একটি শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত