তারেক রহমানের বার্তা মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ঐক্যবদ্ধ থাকুন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
তারেক রহমান ২৭ ডিসেম্বর ভোটার হবেন: বিএনপি আশা করছে সুষ্ঠু পরিবেশ

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন। রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানের বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন দেশের পাঁচটি সাংগঠনিক বিভাগের প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে দলের নীতি ও দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

মতবিনিময়ের শুরুতেই তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে কাজ করতে হবে। যারা আসল বিএনপি কর্মী, তারা কখনো বিএনপিকে ভাঙবেন না। দলের প্রতি আনুগত্য ও একতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তারেক রহমানের এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে দলীয় শৃঙ্খলা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের গুরুত্ব।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিকরা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। তারা বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশনা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সজাগতা ও দায়িত্ববোধ জাগিয়েছে।

মতবিনিময় সভার সময় চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আলোচনার ধারা অব্যাহত থাকে। প্রতিটি বিভাগে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নীরবে বসে দলের নেতৃত্বের বক্তব্য শুনেছেন। যদিও তারা সরাসরি নিজের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ পাননি, তবু তাদের উপস্থিতি এবং মনোযোগ পরিস্কার করেছে যে, তারা দলের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমরা তার সিদ্ধান্ত মেনে চলব। যেহেতু মতবিনিময় সভায় আমাদের কথা বলার সুযোগ ছিল না, তাই আমরা চাই আরও সংলাপের মাধ্যমে আমাদের মত প্রকাশ করতে। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ ও সুবিধাভোগী ও পরিবারতন্ত্র থেকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়গুলো যদি বাস্তবে প্রযোজ্য হয়, তা হলে এটি দলের সত্যিকারের ত্যাগী নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হবে।’

রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও-৩ (রানীশংকৈল-পীরগঞ্জ) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী কামাল আনোয়ার আহাম্মেদও মতবিনিময় সভার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন। এটি দলের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। যদিও আমরা আমাদের কথাগুলো প্রকাশ করতে পারিনি, তবু দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব।’

মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পরামর্শ দিয়েছেন, নির্বাচনের মাঠে নিজেদের শক্তি ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, প্রার্থীকে তার আসনে গিয়ে স্থানীয় সহকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করতে হবে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন ছাড়া কার্যকরভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যাবে। এই নির্দেশনার মধ্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে দলের একতা, স্থানীয় নেতৃত্বের মূল্যায়ন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির ব্যাপকতা।

তারেক রহমানের বক্তব্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছে একটি মূল বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে—দলীয় শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে কাজ করতে না পারলে তা শুধু দল নয়, দেশ ও জাতির ক্ষতি করবে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিতরা জানান, তারেক রহমানের ভাষণে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় করার গুরুত্ব বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি কেবল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ দলের সমর্থকের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

এই মতবিনিময় সভা বিএনপির নেতৃত্বের পরিকল্পনা ও নির্বাচনী কৌশলকে আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও একতা বজায় রাখার ওপর এই ধরনের বার্তা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগাতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে, দলীয় নেতৃত্ব ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ এবং মতবিনিময় ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও কার্যকর করবে।

পরিশেষে, তারেক রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন যে, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলা ও একতা বজায় রাখা একান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, দলের জন্য যারা আসল নেতা ও কর্মী, তারা কখনো দলকে ভাঙবে না এবং নির্বাচনের মাঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। এই নির্দেশনা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের কার্যক্রমকে নির্ধারণে একটি মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত