প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা — শামীম ওসমান-এর একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত আজিজুল ইসলাম আজিজকে রোববার রাতের অন্ধকারে ভারতের সীমান্ত থেকে ধওরা হয়েছে বলে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে। শুধু এটাই নয়, আজিজের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, লুটপাট, জালিয়াতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ একাধিক মামলা রয়েছে — পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে এসব অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ সংবাদদাতাকে জানান, “র্যাফ ও দর্শনা থানা-পুলিশ মিলে ভারত পালানোর পথ ধরে আজিজকে ধরা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আমাদের সহায়তা চেয়েছিল, এরপরই আমরা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করি।” তিনি আরও জানান, আজিজকে সোমবার আদালতে তোলা হবে এবং রিমান্ড আবেদন করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজিজ গত কিছু দিন ধরে ভারতে পালানোর পরিকল্পনায় ছিল। বিশেষ করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থেকে কয়েকশ কোটি টাকার চাঁদা ও লুটপাটের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই এলাকা থেকে তার নাম উল্লেখ করে লুটপাট ও চাঁদাবাজির ঘটনার কথা থাকলেও তদন্তের গতি ধীর ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এরশাদ গ্রুপের নারায়ণগঞ্জের রড কারখানা-মেশিনারি দখল, মিথ্যা মামলা চালিয়ে উল্টো কারখানাকে দখল করার অভিযানসহ বড় অঙ্কের লুটপাটের সঙ্গে আজিজ ও তার সহযোগীদের নাম যুক্ত।
আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আজিজের গ্রেপ্তার ছাপ ফেলছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠতায় কাজ করেছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। যদিও শামীম ওসমান নিজে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি, তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুর্নীতি ও সম্পদের গঠন সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে।
এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে যুক্ত পুরো চিত্রে একাধিক দিক খোঁজে দেখা গেছে—একদিকে বিষয়টি আইন ও বিচারপ্রক্রিয়ার আলোচনায় আসছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। আজিজের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে পুলিশের মুখপাত্র ঠিকই বলেছেন, তবে এর মধ্যে ঠিক কতগুলো মামলা তখনকার তদন্ত কার্যক্রমে রয়েছে বা কতোটার বিচার হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
এক বিশেষ দৃষ্টিকোণে দেখা যায়, এরশাদ গ্রুপের কারখানা দখল ও বৃহৎ চাঁদাবাজি মামলাগুলোতে আজিজ নাম যুক্ত থাকলেও স্থানীয়-আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তির কারণে নির্দিষ্ট পর্যায়ে তা দ্রুত আগায়নি। এখন গ্রেপ্তারের পর তদন্তের অগ্রগতি বিচার-প্রক্রিয়ায় নজর রাখার বিষয় হয়ে উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এক পর্যায়ে আজিজকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থেকে চাঁদাবাজির মামলায় ধরতে চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি পালিয়ে গেছেন বলেই স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য রয়েছে। তবে এই তথ্য এখনও গোয়েন্দা সংস্থার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সম্পূর্ণ স্বীকার হয়নি। পুলিশের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা আজিজকে গ্রেপ্তার করেছি, এখন মামলার সকল দিক নিয়ে খতিয়ে দেখছি।”
গ্রেপ্তারের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে—কীভাবে একজন দীর্ঘদিন ‘অজানা’ অবস্থায় ছিল, কীভাবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে বিলম্ব হয়, এবং গ্রেপ্তারের এই মুহূর্তে এটি রাজনৈতিকভাবে কতটা সার্বিকভাবে প্রভাব ফেলবে। সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখন একგვর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে—নিযুক্ত ব্যক্তি নিয়মশৃঙ্খলা ও আইন-বিচার ব্যবস্থার আওতায় এলেন কি না, সেই দৃষ্টিতে।
এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সরকারি মুখপাত্রদের বিবৃতির সমন্বয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে। একাধিক সংবাদ উৎসে আজিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পালিয়ে চলার চেষ্টার খবর, ও গ্রেপ্তারের পরবর্তী কি ধরণে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে—এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত চলায় সব তথ্য এখনও চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয়। যথাযথ ও নিরপেক্ষভাবে ভবিষ্যতে আরও সত্য ও প্রমাণভিত্তিক তথ্য উদঘাটন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।