প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি আবেদন শুরু হচ্ছে আগামী ২০ নভেম্বর। চলবে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী জানুয়ারিতে তিন ইউনিটে — বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বিভাগীয় শহরে এবার ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের ভ্রমণ ও খরচের চাপ কমে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাবি জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৬ জানুয়ারি ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিটের, ১৭ জানুয়ারি ‘এ’ (মানবিক) ইউনিটের এবং ২৪ জানুয়ারি ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন দুটি শিফটে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে।
‘এ’ ইউনিটের আওতায় রয়েছে কলা, আইন, সামাজিক বিজ্ঞান, চারুকলা অনুষদ এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।
‘বি’ ইউনিটে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট অন্তর্ভুক্ত।
‘সি’ ইউনিটে বিজ্ঞান, কৃষি, প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, ভূ-বিজ্ঞান, ফিশারিজ ও ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদ অন্তর্ভুক্ত।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা তিন ইউনিটের যেকোনোটিতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে অবশ্যই তার শিক্ষাবর্ষ ও বিভাগ অনুযায়ী নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
মানবিক ও বাণিজ্য শাখার আবেদনকারীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ সহ মোট জিপিএ ৭.০০ থাকতে হবে।
বিজ্ঞান শাখায় উত্তীর্ণদের পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ সহ মোট জিপিএ ৮.০০ থাকতে হবে।
ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত জিপিএ ৫.০০ স্কেলে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া, GCE O-লেভেলে অন্তত পাঁচটি বিষয়ে এবং A-লেভেলে অন্তত দুটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে, যেখানে মোট সাতটি বিষয়ের মধ্যে চারটিতে ন্যূনতম B এবং তিনটিতে ন্যূনতম C গ্রেড থাকতে হবে।
ইংরেজি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের চূড়ান্ত আবেদনকালে অতিরিক্ত ফরম পূরণ করতে হবে।
‘এ’ (মানবিক) ইউনিটে আবেদন ফি ১,৩২০ টাকা,
‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটে ১,১০০ টাকা,
এবং ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিটে ১,৩২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিটি ফিতে অতিরিক্ত ১০% সার্ভিস চার্জ যুক্ত থাকবে।
প্রতিটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে এক ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ নম্বর এবং প্রতি চারটি ভুল উত্তরের বিপরীতে ১ নম্বর কাটা যাবে।
ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৪০ নির্ধারিত হয়েছে।
অনলাইনে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী কোটায় আবেদন করতে পারবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, শারীরিক প্রতিবন্ধী, খেলোয়াড় ও বিকেএসপি-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা। কোটার আবেদনও অনলাইনেই সম্পন্ন করতে হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবারও ভর্তি পরীক্ষার বিকেন্দ্রীকরণ নীতি বজায় রাখছে। রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল — এই ছয়টি বিভাগীয় শহরে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর ফলে ঢাকার বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে নিজ নিজ অঞ্চলে পরীক্ষা দিতে পারবে।
ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, আবেদন নির্দেশনা ও প্রযোজ্য শর্তাদি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট http://admission.ru.ac.bd-এ পাওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
রাবি প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এবার ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। আবেদন যাচাই, প্রবেশপত্র ইস্যু, প্রশ্ন প্রণয়ন ও পরীক্ষার ফল প্রকাশ — সব ধাপেই আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ইলেকট্রনিক উপস্থিতি যাচাই এবং পরীক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করতে ফেস রিকগনিশন ব্যবস্থাও যুক্ত করা হচ্ছে।
রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, “ভর্তি প্রক্রিয়ায় আমরা স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই। এবারও সারাদেশের শিক্ষার্থীরা যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।”
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবির ভর্তি যাত্রা সবসময়ই শিক্ষার্থীদের জন্য বড় আকর্ষণ। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন, রাবিতে ভর্তি হওয়া মানে “একটি ঐতিহ্যের অংশ হওয়া।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে এবারও প্রত্যাশা রয়েছে— পরীক্ষার পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা, প্রশ্নের মান এবং সময়মতো ফল প্রকাশের মাধ্যমে দেশের অন্যতম শীর্ষ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তার অবস্থান আরও সুসংহত করবে।