সিটি-ড্যাফোডিল সংঘর্ষ: আহত শিক্ষার্থীদের হস্তান্তর, ক্যাম্পাসে আতঙ্ক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৫ বার
সিটি-ড্যাফোডিল সংঘর্ষ: আহত শিক্ষার্থীদের হস্তান্তর, ক্যাম্পাসে আতঙ্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সাভার সিটি ইউনিভার্সিটিতে আটক থাকা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষার্থী সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিটি ইউনিভার্সিটির প্রক্টর শেখ মুহাম্মদ আলিয়ার জানান, শিক্ষার্থীরা মূলত নিরাপত্তার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা তো তাদের আটকে রাখিনি, তারা এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তবে রাতের অন্ধকারে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের কাছে রাখা হয়েছিল। পরে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এসে তাদের আমাদের কাছে থেকে নিয়েছেন।”

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা ছেড়ে দেয়া হয়েছে, তবে তারা মারধরের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “মূলত ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) তাদের মুক্তি দিয়েছে এবং আমাদের প্রক্টোরিয়াল টিম ও শিক্ষিকর উপস্থিত ছিলেন। এখন শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।”

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

ঘটনার পেছনের সূত্রপাত হিসেবে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসার কাছে উপস্থিত ছিলেন। এক শিক্ষার্থী থুতু ফেললে তা মোটরসাইকেলে থাকা ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীর গায়ে পড়ে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষে রূপ নেয়। যদিও সংঘর্ষ সাময়িকভাবে থামলেও, সোমবার থেকে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে শুরু করেছেন।

সিটি ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে দেখা যায় কাচের টুকরা ও ভাঙা আসবাব ছড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া ১৫টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ড্রোন দিয়ে নজরদারির পর হামলা চালানো হয়েছিল এবং এসি ও কম্পিউটার খুলে নেওয়া হয়েছে। সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মির আক্তার হোসেন বলেন, “আটক হওয়া ১৭ ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীকে ইউজিসি ও ড্যাফোডিল প্রশাসনের মুচলেকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, সীমিত আকারে এক সপ্তাহ পর ক্লাস শুরু হলেও পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তাদের শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য ও ভিডিও অনুযায়ী হামলার সূচনা ও পরিকল্পনা সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রের অংশগ্রহণে হয়েছে। এছাড়া বলা হয়েছে, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য বাহ্যিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীও সংঘর্ষে যুক্ত হয়েছিল। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে এবং শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলেছে।

একই সঙ্গে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ অভিযোগ করেছে, শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে নির্যাতন করা হয়েছে এবং স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক মাত্রা প্রতিফলিত করে।

উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ই সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। এদিকে সোমবার সকালে সিটি ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, পুরো পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ইতিমধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা শুরু করেছে। তবে অনেকে আশঙ্কা করছেন, সাময়িক শান্তি থাকলেও আভ্যন্তরীণ উত্তেজনা ও ধীরে ধীরে সংঘর্ষের দাগ দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তি ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে দেশে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশে নতুনভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত পুনরায় একাডেমিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে চায়, তবে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে প্রতিরোধের জন্য কঠোর ও সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত