রাজশাহীর পদ্মার চরে জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষে ২ নিহত, ৩ গুলিবিদ্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৭ বার

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজশাহী । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালেই উপজেলার নীচ খানপুর চর এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ভীতির ছায়া ফেলেছে। সংঘর্ষে দু’জন নিহত এবং তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

নিহতরা হলেন আমান মন্ডল (৩৬) এবং নাজমুল মন্ডল (২৬)। আহতরা হলেন মুনতাজ মন্ডল (৩২), রাকিব হোসেন (১৮) এবং আরেকজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্ত। সকলেই বাঘা উপজেলার নীচ খানপুর গ্রামের বাসিন্দা। আহতদের প্রথমে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের অবস্থার গুরুতরতা বিবেচনায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নিহার চন্দ্র মন্ডল জানান, আহতদের শরীরে অসংখ্য গুলির চিহ্ন রয়েছে। মুনতাজের শরীরে শতাধিক, রাকিবের শরীরে প্রায় ৮০ এবং নাজমুলের শরীরে ৩৫টির মতো গুলির চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে। নিহত আমানের মাথাসহ শরীরের পাঁচ স্থানে গুলি লেগেছে। চিকিৎসকের মতে, গুলির আঘাত থেকে মনে হচ্ছে এটি পিস্তল ও রাবার বুলেটের সংমিশ্রণ হতে পারে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে চরাঞ্চলের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। গুলির তীব্রতায় ঘটনাস্থলে কেউ এগোতে পারেনি। পরে গুলি থেমে গেলে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

এই ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কথিত ‘কাকন বাহিনী’ চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। নীচ খানপুর গ্রামের বেলাল হোসেন বলেন, “আমরা খড় কাটছিলাম। হঠাৎ কাকন বাহিনীর লোকজন অস্ত্র নিয়ে এসে জমি দখল করতে গুলি চালায়। এতে দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আমাদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত।”

বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এই ধরনের সংঘর্ষ এলাকায় নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তির জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের সংঘর্ষ পুনরায় ঘটতে পারে, যদি জমি দখল ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলতে থাকে।

অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সংঘর্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাকন বাহিনী ও স্থানীয় পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। তবে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিক ও স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নদীর চরাঞ্চলে জমি ও সম্পদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিদ্যমান। এসব সংঘর্ষ শুধু ব্যক্তিগত লেনদেন বা আধিপত্যের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সামাজিক শান্তি ও এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি তৈরি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত