আজকের স্বর্ণের দাম: ২৮ অক্টোবর ২০২৫

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৫ বার
আজকের স্বর্ণের দাম: ১৭ নভেম্বর ২০২৫–এ কমেছে বাজারে**

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম। সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন এবং স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা হ্রাসের কারণে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হচ্ছে। নতুন দামের ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা—যা এর আগে ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকা। অর্থাৎ এক দিনে ভরিপ্রতি কমেছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।

সোমবার রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কিছুটা কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও গত কয়েক দিনে স্বর্ণের হার নিম্নমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বাজুস নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে।

নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণ বিক্রির সময় সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন, নিপুণতা ও মানের ভিন্নতার কারণে মজুরি কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি কমানো হয়েছে রুপার দামও। এবার ২২ ক্যারেট রুপার ভরি কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভরিপ্রতি ১ হাজার ২২৪ টাকা পর্যন্ত কমেছে রুপার দাম।

বাজুসের দামের এই সমন্বয়কে অনেক ব্যবসায়ী স্বাগত জানালেও, খুচরা বাজারে এখনো কিছুটা অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমলেও আমাদের দেশে ক্রেতার সংখ্যা গত মাসে হঠাৎ কমে গেছে। অনেকেই মনে করেছিলেন স্বর্ণ আরও কমবে, তাই কেনার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। এবার দাম কমায় হয়তো ক্রেতারা আবার ফিরে আসবেন।”

অন্যদিকে, অনেক ভোক্তা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম এখনও নাগালের বাইরে। সম্প্রতি টাকার মান কমে যাওয়া, ডলারের চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বর্ণের দামে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। ফলে দেশে স্বর্ণের বাজারও বেশ অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।

একজন মধ্যবিত্ত ক্রেতা জানান, “আমরা আগে এক ভরি স্বর্ণ কিনতে পারতাম লাখ টাকার নিচে, এখন তার দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে। এবার দাম কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের নাগালে এখনো নেই।”

বাজুসের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বর্ণের দামের পরিবর্তন পুরোপুরি নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় চাহিদার ওপর। তারা মনে করেন, চলতি মাসে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর সামান্য কমেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ডলারের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। তবে নভেম্বরের শুরুতে আবারও দাম বাড়তে পারে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।

একজন বাজুস নির্বাহী বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়েই দেশের দাম নির্ধারণ করি। বাংলাদেশে এখন স্বর্ণের বেশিরভাগ কাঁচামাল আমদানি নির্ভর, তাই বৈদেশিক মুদ্রার হার এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তন সরাসরি দামের ওপর প্রভাব ফেলে।”

এর আগে মাত্র একদিন আগেই—রোববার (২৬ অক্টোবর)—স্বর্ণের দাম এক দফা কমিয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকা, যা সোমবার (২৭ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হয়। অর্থাৎ টানা দুই দিনে দুবার দামের সমন্বয় হলো, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বিরল ঘটনা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ডলারের বিপরীতে স্বর্ণের দামের ওঠানামার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে স্বর্ণের লেনদেন কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বাজারেও।

অন্যদিকে, দেশে বিয়ের মৌসুম সামনে রেখে সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বাড়ে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি উল্টো। ক্রেতারা এখন দাম কমার আশায় অপেক্ষা করছেন। ফলে ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমে গেছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ।

সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দামে পরিবর্তন এলেও, তারা এখনও পুরনো দামে মজুত পণ্যের কারণে পুরোপুরি নতুন দামে বিক্রি করতে পারছেন না। অনেকেই মনে করছেন, বাজারে আরও কিছুদিন স্থিতিশীলতা না এলে ক্রেতা-ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই ঝুঁকি থেকে যাবে।

বিশ্ববাজারের প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২,৩১৫ থেকে ২,৩২৫ মার্কিন ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২,৩৭০ ডলার। এই পতনই বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ, মুদ্রাস্ফীতির হার যদি আবারও বাড়ে বা বৈশ্বিক অস্থিরতা ফিরে আসে, তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকবেন।

বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাজুস মোট নয়বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে। এর মধ্যে ছয়বার দাম বেড়েছে এবং তিনবার কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত ঘন ঘন সমন্বয় ইঙ্গিত দেয় যে বাজার এখনো স্থিতিশীল নয় এবং স্বর্ণের দামের ওপর বৈদেশিক অর্থনীতির প্রভাব অত্যন্ত গভীর।

রুপার বাজারেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে নবমবারের মতো—এর মধ্যে ছয়বার বেড়েছে, আর কমেছে মাত্র তিনবার। বাজুস বলছে, রুপার দাম স্বর্ণের তুলনায় কম পরিবর্তিত হলেও, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ এবং মুদ্রা বিনিময় হারের কারণে তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দেশের স্বর্ণবাজার এখন এক অনিশ্চিত অবস্থায় আছে। স্বর্ণের দাম কমায় অনেকেই কিছুটা স্বস্তি পেলেও, বাজারের স্থিতিশীলতা এখনো আসেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম আরও কিছুটা কমলে বিক্রি বাড়বে, আর সাধারণ মানুষ আশায় আছেন—একদিন হয়তো আবার স্বর্ণ হবে তাদের নাগালের মধ্যে।

এই দাম কমানোর ফলে বিয়ের মৌসুমে হয়তো স্বর্ণের গহনা কেনায় সামান্য স্বস্তি মিলবে মধ্যবিত্তের কাছে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্থায়ী স্বস্তির জন্য প্রয়োজন মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা, যা ছাড়া স্বর্ণের দাম দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাই এখন তাকিয়ে আছেন বৈশ্বিক বাজারের দিকে—দেখার জন্য, এই কমতির ধারা কতদিন স্থায়ী হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত