বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এনডিসি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩২ বার
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এনডিসি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎটি ছিল উষ্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক প্রশিক্ষণার্থীরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও উন্নয়নভিত্তিক আলোচনা করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এনডিসি কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শহীনুল হকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি কোর্স)-২০২৫ ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি)-২০২৫-এর কোর্স সদস্যরা, অনুষদ সদস্য এবং স্টাফ অফিসাররা।

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

বঙ্গভবনে প্রবেশের পর রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রটোকল কর্মকর্তারা এনডিসি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। এরপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একান্ত ও পরে সম্প্রসারিত বৈঠকে অংশ নেন এনডিসি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি দেশের সার্বভৌম নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা কৌশল, আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে বাংলাদেশের অবদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকাশে এনডিসির ভূমিকা নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ কেবল একটি প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি জাতীয় চিন্তাশালা, যা দেশের নীতি নির্ধারণ, কৌশল প্রণয়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাতির নিরাপত্তা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না, বরং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং সামাজিক সংহতির সমন্বয়েই তা নিশ্চিত হয়।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন বিশ্বের কাছে একটি পেশাদার, দক্ষ ও মানবিক বাহিনী হিসেবে স্বীকৃত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুধু শান্তি রক্ষাই নয়, বরং মানবিক সহায়তাও প্রদান করছেন, যা দেশের গৌরব বৃদ্ধি করেছে।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এনডিসির সদস্যরা তাদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন, কৌশলগত নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি খাতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন স্মার্ট রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে। এই যাত্রায় প্রতিরক্ষা ও উন্নয়ন নীতিকে একত্রিত করা সময়ের দাবি। এনডিসির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সেই নেতৃত্বের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এ সময় এনডিসি কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শহীনুল হক রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “জাতির সর্বোচ্চ পদাধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ আমাদের কোর্স সদস্যদের জন্য একটি প্রেরণার উৎস। রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা আমাদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনে নতুন উদ্যম যোগাবে।”

তিনি জানান, এনডিসি কোর্সে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিভিন্ন বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা কৌশল বিনিময় ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে এনডিসির অবদান আরও প্রসারিত হচ্ছে।

সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় প্রতিরক্ষা খাতের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেন। তিনি বলেন, “যে জাতি স্বাধীনতা অর্জন করেছে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে, সে জাতি জানে নিরাপত্তা মানে কেবল যুদ্ধ নয়—এটি আত্মনির্ভরতা, শৃঙ্খলা এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও।”

রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এখন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে এনডিসির গবেষণা, বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত পরিকল্পনা জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেক আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

বৈঠক শেষে এনডিসি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে স্মারকচিত্র তুলেন এবং বঙ্গভবনের অতিথি বইয়ে স্বাক্ষর করেন। বঙ্গভবনের অফিসিয়াল সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির সৌজন্যমূলক আলোচনা শেষে প্রতিনিধি দলকে বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখানো হয়, যেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাস সম্পর্কিত প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, এনডিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মকর্তাদের জন্য এই কোর্স পরিচালনা করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো কৌশলগত চিন্তাশক্তি, আন্তঃবাহিনী সমন্বয় এবং নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব বিকাশ করা। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।

বঙ্গভবনে এই সাক্ষাৎকে অনেকেই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে, যা ভবিষ্যতের নেতৃত্ব ও জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত