প্রাথমিক শিক্ষার সংকট কাটাতে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
প্রাথমিক শিক্ষার সংকট কাটাতে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসছে: সারা দেশে ১৩ হাজার ৫০০ পদ শূন্য

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বিজ্ঞপ্তি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে ১৩ হাজার ৫০০ সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা হাতে পেলেই শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নভেম্বর মাসে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মহাপরিচালক শামসুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যেই প্রধান শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেডের পদ ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার বাস্তবায়নের কাজও চলছে। “সহকারী শিক্ষক যারা আছেন, তাদের ১১তম গ্রেডের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছি। পে কমিশনের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। শূন্য পদগুলো পূরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে,” তিনি বলেন। শিক্ষকদের শূন্য পদ দ্রুত পূরণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতাবৃদ্ধি নিশ্চিত করাও প্রাথমিক শিক্ষা নীতি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

শামসুজ্জামান জানান, শুধু শূন্য পদগুলোই সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষক চলতি দায়িত্বে বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। “এটি নিঃসন্দেহে তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক। পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন না একটি মামলার কারণে। আশা করছি অল্প সময়ে মামলার রায় আসবে। ফলে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা সম্ভব হবে এবং শূন্য পদগুলো নতুন শিক্ষকদের নিয়োগে খোলা থাকবে,” তিনি বলেন।

শিক্ষকদের মানোন্নয়ন ও ক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়েও মহাপরিচালক গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। লিডারশিপ ট্রেনিংসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর করার ওপর আমরা কাজ করছি। প্রধান শিক্ষকদের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। আগে ক্ষুদ্র মেরামত বা স্লিপের জন্য তারা ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারতেন, এখন তা তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষা অফিসারের যৌথ অনুমোদন ছাড়া কোনো বিল প্রদান করা হবে না।”

শামসুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য দেশের বিভিন্ন স্কুলের নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। “আমরা আশা করি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে জরাজীর্ণ কোনো স্কুল থাকবে না। নির্মাণকাজ, সংস্কার এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলের মান ও পরিকাঠামোকে আধুনিক ও নিরাপদ করা হবে। প্রধান শিক্ষকদের ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্কুল পরিচালনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে,” তিনি জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষায় সহকারী শিক্ষকের ঘাটতি দেশের শিক্ষার মান ও শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৩ হাজার ৫০০ শূন্য সহকারী শিক্ষক পদ পূরণ হলেই দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের ঘাটতি অনেকটা কমে আসবে। শিক্ষাব্যবস্থার এই পদোন্নতি শুধু শিক্ষার্থীর জন্য নয়, বরং শিক্ষক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উদ্যোগ।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকদের ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্কুল পরিচালনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। নির্মাণ ও সংস্কারের কাজে প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষা অফিসারের যৌথ অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি স্কুলগুলোর খরচ ব্যবস্থাপনা আরও পেশাদারী এবং নির্ভরযোগ্য হবে।

তিনি যোগ করেন, শিক্ষক নিয়োগ ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষকেরা যাতে শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষাপদ্ধতি এবং আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শামসুজ্জামান জানান, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য লিডারশিপ, শিক্ষণ কৌশল এবং স্কুল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শিক্ষকদের নেতৃত্বগুণ বৃদ্ধি, শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যালয় পরিচালনায় আরও সক্ষম করে তুলবে। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা পরিবেশের মানোন্নয়ন হবে এবং শিশু শিক্ষার্থীরা উন্নত ও সমৃদ্ধ শিক্ষাজীবন লাভ করবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের এই উদ্যোগ সরকারের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের অংশ। মহাপরিচালক শামসুজ্জামান বলেন, “আমরা শিক্ষকদের শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সহকারী শিক্ষকের পদে নিয়োগ দিলে স্কুলগুলোতে শিক্ষকের অভাব দূর হবে এবং শিশু শিক্ষার্থীরা আরও মানসম্মত শিক্ষা পাবেন। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। আমরা আশা করি নভেম্বর মাসে শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষকের সাথে পরিচিত হবে।”

শিক্ষাবিদ এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষকের ঘাটতি দূর করা শুধু সংখ্যাগত সমস্যার সমাধান নয়। এটি শিক্ষার মান বৃদ্ধি, স্কুল পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থী মনোযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের দক্ষতা ও যোগ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

মহাপরিচালক আরও জানান, শিক্ষকদের চাকরি ও পদোন্নতি সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য চলমান মামলার ফলাফলের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এই মামলার রায় আসলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদগুলো পূর্ণ হবে এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত কার্যকর হবে। ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো ও শিক্ষা মানের উন্নয়নে একটি বড় অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও বিদ্যালয় সংস্কারের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি এবং স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের ১৩ হাজার ৫০০ শূন্য সহকারী শিক্ষক পদ পূরণের পর প্রত্যেক স্কুলে শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত হবে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এক নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত