জেলা ঘোষণার জন্য আন্দোলন, রেলপথে সংঘর্ষে মামলা দায়ের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৫ বার

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভৈরবকে জেলার মর্যাদা দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভের মাঝে রেলপথে সংঘর্ষ ও মামলা দায়েরের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশনে দুই ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচি পালন করার সময় নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ ইউসুফ বাদী হয়ে রেলওয়ে থানায় একশত থেকে দেড়শ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব বাজারে আন্দোলনকারীরা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। সাড়ে ১০টার দিকে ট্রেনটি বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলনকারীরা নিজেদের অবস্থান নেন। পরিস্থিতি শিথিল করার জন্য পুলিশের এক কর্মকর্তা ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে আন্দোলনকারীদের নেমে যেতে বলেন। এ সময় ট্রেনে ইট-পাথর ছোড়ে ও ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনা ঘটে। তবে কিছু সময়ের মধ্যে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন কর্মী এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এই সংঘর্ষে কিছু ব্যক্তির আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভৈরবকে জেলা করার দীর্ঘ দিনের দাবির পটভূমি ২০০৯ সালের দিকে ফিরে যায়। তখন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ভৈরবকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর ওই বছরের অক্টোবর মাসে কিশোরগঞ্জকে বিভক্ত করে কটিয়াদী, বাজিতপুর, অষ্টগ্রাম ও কুলিয়ারচর উপজেলার সমন্বয়ে ভৈরবকে দেশের ৬৫তম জেলা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে নানা কারণে সেই প্রজ্ঞাপন কার্যকর করা হয়নি। এ কারণে স্থানীয় জনগণ, ছাত্র ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে জেলার মর্যাদা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

গত কয়েক মাসে আন্দোলনকারীরা ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। ১৮ অক্টোবর লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সরকারকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে ২৬ অক্টোবর সড়কপথ অবরোধ, ২৭ অক্টোবর রেলপথ অবরোধ এবং ২৮ অক্টোবর নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার ভৈরবে নদীপথ অবরোধ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা অংশগ্রহণ করবেন।

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

স্থানীয়রা জানান, রেলপথে হামলা হলেও আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ভৈরবকে জেলা হিসেবে দ্রুত কার্যকর করার দাবিকে সামনে নিয়ে আসা। দীর্ঘদিনের এই দাবির বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয় জনগণ হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং পুনরায় মাঠে নেমে সরকারকে জোরালো বার্তা দিতে চেয়েছেন।

মঙ্গলবারের নদীপথ অবরোধের কর্মসূচিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও অন্যান্য সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। নদীপথ অবরোধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা নদী ও লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাবেন এবং কোনরকম হিংসা এড়িয়ে চলবেন।

ভৈরববাসী আশা করছেন, আন্দোলনের এই নতুন দফা সরকারের নজরে পড়বে এবং ভৈরবকে জেলার মর্যাদা প্রদানের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা জেলার প্রজ্ঞাপন কার্যকর করা হলে শিক্ষাগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ না হয়।

সর্বশেষ জানা যায়, মামলা দায়েরের পর রেলওয়ে ও পুলিশ প্রশাসন রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সংলাপও চাইছেন। ভৈরববাসী আশা করছেন যে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি সরকারের নজরে আসবে এবং ভৈরবকে ৬৫তম জেলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত