চলন্ত বাসে আগুন যাত্রীরা আতংকে চিৎকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩২ বার
চলন্ত বাসে আগুন যাত্রীরা আতংকে চিৎকার

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুরে গতকাল সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের সময় একটি চলন্ত বিআরটিসি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং প্রায় একঘণ্টা যান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতার কারণে অবশেষে প্রায় ৪৫ মিনিট চেষ্টা চালানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, বাসটি বরিশাল থেকে খুলনার দিকে যাত্রা করছিল। বাস চালক মো. শাহজালাল জানান, তারা উজিরপুরের ইচলাদী টোলপ্লাজায় পৌঁছানোর সময় যাত্রীদের মধ্যে ধোঁয়া এবং আগুনের গন্ধ শনাক্ত হয়। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হলে তারা চিৎকার করতে শুরু করেন। চালক তৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি থামিয়ে ব্রেক ব্যবহার করেন এবং দেখতে পান বাসের ইঞ্জিনের অংশ থেকে আগুন বের হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।

উজিরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুতভাবে আগুন নেভানোর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রায় ৪৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুর রহমান অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং বলেন, “বাসে যাত্রীদের মধ্যে কেউ হতাহত হননি। আগুন দ্রুত নেভানোর কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।”

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং রাস্তার যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। অগ্নিকাণ্ডের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর প্রায় এক ঘণ্টা পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এই অগ্নিকাণ্ডটি প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করা বাসে ঘটে। যাত্রীদের মধ্যে কেউ হতাহত না হওয়া সত্ত্বেও ঘটনাটি যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং ভয় সৃষ্টি করেছে। বাসের চালক মো. শাহজালাল জানান, “আমি আমার সকল যাত্রীকে নিরাপদ স্থানে নামিয়েছি। ধোঁয়া দেখে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়েছিল, তবে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। আমাদের তৎপরতার কারণে বড় ক্ষতি এড়ানো গেছে।”

যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসে প্রথমে হালকা ধোঁয়া দেখা যায়, যা দ্রুত আগুনে রূপ নেয়। যাত্রীরা সতর্কতার সঙ্গে বাসের বাইরে বের হন এবং আশেপাশের মানুষও দ্রুত এগিয়ে আসে। কিছু স্থানীয় পথচারী এবং দোকানদার আগুন নেভাতে সাহায্য করেন। তবে এটি ছিল মূলত ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্স ইউনিটের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ফলেই যে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

উজিরপুর অঞ্চলের স্থানীয়রা জানান, এই মহাসড়কটি দেশের প্রধান সড়কগুলোর একটি। ঢাকা থেকে বরিশাল বা খুলনা যাওয়া যাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার সময় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যে আসে। এ ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা এবং স্থানীয়দের সাহায্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে সাময়িকভাবে সড়কে যানজট তৈরি হয়। বিশেষ করে সকাল ও দুপুরের সময় মহাসড়কে ঘন যাত্রীর সংখ্যা থাকে। দুই পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজট তৈরি হওয়ায় অন্য যাত্রীদের যাতায়াত ব্যাহত হয়। এক ঘণ্টার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পরে সমস্যার সমাধান হয়।

প্রাথমিক তদন্তে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসের ইঞ্জিন বা ইলেকট্রিক্যাল সমস্যার কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বাস মালিক সংস্থা এবং বিআরটিসি কর্মকর্তারা এই ঘটনা তদন্তে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছেন। তারা বাসের প্রযুক্তিগত ত্রুটি, যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা যাচাই করছেন।

বিআরটিসি বাসের নিয়মিত রুটে চলাচলরত বাসগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চলন্ত অবস্থায় যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং যাত্রা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের দুর্ঘটনার পর প্রশাসন এবং বাস সংস্থাগুলো সাধারণত বাসগুলোর মেইনটেনেন্স এবং নিরাপত্তা চেক আপ বাড়ানোর চেষ্টা করে।

উজিরপুর এলাকার স্থানীয় বাসযাত্রী এবং পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানান, এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড খুবই বিরল, তবে প্রায়ই যানবাহনের ইঞ্জিন বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে সমস্যার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তারা বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তা সর্বাধিক গুরুত্বের বিষয়। প্রশাসনের উচিত নিয়মিতভাবে বাস এবং যানবাহনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রায় ৪৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। এটি আমাদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং অভিজ্ঞ কর্মীদের কারণে সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা আরও প্রশিক্ষণ এবং প্রস্তুতি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।”

বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, চলন্ত বাসে অগ্নিকাণ্ড ঘটে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনা মারাত্মক আকার নিতে পারে। সেক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, আগুন নেভানোর যন্ত্রপাতি এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা অপরিহার্য। উজিরপুরে এ ধরনের তৎপরতা এটিই প্রমাণ করেছে যে, অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

স্থানীয় প্রশাসন এবং সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে বাসের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং দুর্ঘটনার কারণ যাচাই করছে। তারা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে। এছাড়াও উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ এবং স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগ সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এই ঘটনার প্রভাব শুধু উজিরপুর বা আশেপাশের এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক, যা একদিকে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং অন্যদিকে প্রায়শই পণ্য পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই এই ধরনের দুর্ঘটনা সাময়িকভাবে দেশের অর্থনীতির কিছু অংশে প্রভাব ফেলতে পারে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

যাত্রী ও স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে বাস মালিক সংস্থা, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন একসাথে কাজ করবে। বাসের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আগুন নেভানোর যন্ত্রপাতি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার প্রশিক্ষণ প্রদান করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটবে না।

পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন প্রাথমিক তদন্ত শেষে বাস সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করবে। এতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

উজিরপুরের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রমাণ করেছে যে, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, স্থানীয় সহযোগিতা এবং ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। ঢাকার জন্যও এটি একটি শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে যে, চলন্ত যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত