প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন শেষ সময়ে অনৈক্যের সুপারিশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে আরপিওর ২০ ধারার উপধারা নিয়ে আলোচনা করা হয়, যেখানে নির্বাচনী প্রতীক ও কয়েকটি সংশ্লিষ্ট বিধানের বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অধিকাংশ বিষয়ের সঙ্গে বিএনপি একমত হলেও প্রতীকের বিষয়ে তারা একমত হতে পারেননি। তার ভাষায়, “অর্ডিন্যান্স পাস হলেও আমাদের কর্নসার্নকে আমলে নেওয়া হয়নি। তাই আমরা একটি চিঠি দিয়েছি, যাতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রত্যেক দলের নিজস্ব প্রতীক রাখার সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ উত্থাপনের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু সেখানে এমন কিছু প্রস্তাব যুক্ত করা হয়েছে যা বিএনপির পরামর্শের বাইরে। তার দাবি, কমিশনের কিছু প্রস্তাবের সঙ্গে দলের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এর মধ্যে কিছু নতুন সংযুক্তি রয়েছে যা পূর্বে আলোচনায় ওঠেনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন যে সংবিধান সংস্কার বিষয়টিও কমিশনের আলোচনার বাইরে থেকে হঠাৎ সংযোজন করা হয়েছে। তার মতে, “জাতীয় সংসদের জন্য নির্বাচন হচ্ছে সংবিধান সংস্কারের পরিষদের কথা ঐকমত্য কমিশনে কখনোই আলোচিত হয়নি।” এ ধরনের সংযোজন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, কমিশনের প্রতিবেদনে ‘২৭০ দিনের’ একটি সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা তার মতে সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং অযৌক্তিক। তিনি এটিকে কমিশনের দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “ঐকমত্য কমিশন আসলে শেষ মুহূর্তে এমন কিছু সুপারিশ দিয়েছে, যা ঐকমত্য নয় বরং অনৈক্যের দিকেই ইঙ্গিত করে। এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না—এটা এখনই বলা যাবে না। তবে আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় সব দলের প্রতীকের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকা অত্যন্ত জরুরি।”
বিএনপি নেতার এই বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বিভিন্ন দলের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলের পরামর্শ উপেক্ষিত থাকার অভিযোগে এই সংলাপের ফলাফল নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের মতবিরোধ রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে পারে এবং নির্বাচনকালীন সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের কেউ কেউ অবশ্য জানিয়েছেন যে, বিএনপির মতামত বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়নি; বরং সার্বিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রস্তাবগুলো তৈরি করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে “নিজস্ব প্রতীক ব্যবস্থার” প্রশ্নটি এখন নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।
বৈঠকের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি যেভাবে “অনৈক্যের সুপারিশ” বলছে, তা মূলত তাদের নির্বাচনী কৌশলের অংশ। দলটি হয়তো আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার ও কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে যাতে প্রতীকের স্বীকৃতি ও নির্বাচনী বিধানগুলো তাদের পক্ষে পুনর্বিবেচনা করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম এবং বিএনপির এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামী দিনে রাজনৈতিক আলোচনার দিক কোনদিকে মোড় নেবে, তা এখন দেশের রাজনৈতিক মহল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।