মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানীর ‘অপহরণ’ নাটক, পুলিশের দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২২ বার
মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানীর ‘অপহরণ’ নাটক, পুলিশের দাবি

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজীপুরের টঙ্গী টিএন্ডটি কলোনীর বিটিসিএল জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানীর নিখোঁজ হওয়া এবং অপহরণের ঘটনা পুলিশের তদন্তে সম্পূর্ণ সাজানো নাটক বলে প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মুহিবুল্লাহ মাদানী নিজেই এই ‘অপহরণ’ কাণ্ড রচনা করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এটি মঞ্চস্থ করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২২ অক্টোবর প্রাতঃভ্রমণের সময় মুহিবুল্লাহ মাদানী নিখোঁজ হন। স্থানীয় ৪-৫ জন ব্যক্তি তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে পঞ্চগড়ের হেলিপ্যাড বাজারে নিয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়। দীর্ঘদিনের তদন্ত, বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং চিকিৎসকের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই ঘটনার সঙ্গে কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছিল না। সমস্ত প্রমাণ প্রমাণ করছে যে, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে সাজানো।

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মুহিবুল্লাহ মাদানী সোমবার রাতে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি নিজেই হেঁটে বিভিন্ন স্থানের মাধ্যমে গাজীপুর থেকে পঞ্চগড়ের হেলিপ্যাড বাজারে পৌঁছেছেন এবং নিজের পায়ের সাথে শিকল লাগিয়ে শুয়ে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করছে যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে অপহরণের তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে।

ঘটনায় দেশব্যাপী সাড়া ফেলেছিল। উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন নিষিদ্ধের দাবি তুলে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তৌহিদী জনতা এবং বিভিন্ন আলেম-ওলামা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মুফতি মুহিবুল্লাহর ‘অপহরণ’ নাটক প্রকাশের পর স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত আলী বলেন, “একজন আলেমের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ এমন আচরণ আশা করে না। যদি সত্যিই কেউ অপহরণ না করে থাকে, তাহলে দেশের মানুষের কাছে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য এটি অপরাধ।”

পুলিশ জানিয়েছে, মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানীকে সোমবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় এবং মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আদালতে তোলা হয়, যেখানে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আদালত শেষে তাকে তার স্বজনদের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা, পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক এসএম মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে আদালতে প্রমাণপত্রসহ জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. Wahiduzzaman বলেছেন, “বিজ্ঞ আদালতের আদেশ মোতাবেক মুফতি মুহিবুল্লাহকে তার স্বজনদের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর পরেই স্থানীয়রা তাকে পঞ্চগড়ের হেলিপ্যাড বাজারে শিকলবন্দি অবস্থায় দেখতে পান। তারা জাতীয় জরুরি পরিষেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ ও তার স্বজনরা তাকে টঙ্গী নিয়ে আসেন।

এই ঘটনা দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত সম্পূর্ণ সতর্কতা ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চালানো হয়েছে। মুহিবুল্লাহ মাদানীর স্বীকারোক্তি প্রকাশের পর পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো বাহ্যিক হুমকি বা অপহরণের ঘটনা ঘটেনি।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের কাণ্ড দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করছেন, ধর্মীয় নেতা হিসেবে মুহিবুল্লাহর এমন আচরণ সামাজিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এবং জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

মুফতি মুহিবুল্লাহর এই স্বীকারোক্তি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নাগরিকরা আশ্চর্য্য প্রকাশ করছেন যে একজন ধর্মীয় নেতা নিজেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘অপহরণ’ নাটক সাজিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন ঘটনা ভবিষ্যতে দেশের নাগরিকদের মধ্যে তথ্য যাচাই করার সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। তারা জনগণকে আশ্বস্ত করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিশেষত ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের ভূমিকা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো হবে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

মুফতি মুহিবুল্লাহর অপহরণের নাটক রচনার ঘটনায় দেশব্যাপী সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা ও বিতর্ক দীর্ঘ সময় আলোচনা এবং মননীয় শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে। এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের স্বচ্ছতার উপর গুরুত্বারোপ করেছে।

পুলিশ বলেছে, মুফতি মুহিবুল্লাহর স্বীকারোক্তি ভিত্তিক তদন্তের নথি এবং প্রমাণাদি দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে রেকর্ড করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত